আমরা বাংলাদেশের মানুষ। আমাদের আবেগ একটু বেশি। একটু না, অনেক বেশি। আমরা বৃষ্টিতে ভিজে প্রেমে পড়ি, ক্রিকেটে হেরে কাঁদি, আর আপনার গোল দেখলে পাগল হয়ে যাই।
আপনি, লিওনেল মেসি, ঠিক আমাদেরই মতো। বিশ্বকাপে গোল করে আপনি কেঁদেছিলেন আপনার অসুস্থ বাবার কথা মনে করে।
আপনি ইনস্টাগ্রামে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে ছবি দেন। আমরাও দিই। পার্থক্য হলো, আপনার ছবিতে ১০ কোটি লাভ লাইক পড়ে, আর আমাদের ছবিতে পড়ে—হা হা!
বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা প্রেম
আপনি কি মেলায় হারিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের কোনো ভাই? ছোটবেলায় আপনার নাম কি মেসবাহ ছিল?
আপনি জানেন কি, বাংলাদেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ আর্জেন্টিনার সমর্থক? অর্থাৎ প্রায় ১১ কোটি মানুষ। আপনার দেশের জনসংখ্যার আড়াই গুণ। এই ১১ কোটি মানুষ বিশ্বাস করে, পৃথিবীতে ফুটবল মানে বিশ্বকাপ আর বিশ্বকাপ মানে আর্জেন্টিনা! খেলবে ৪৮ দেশ, কিন্তু চ্যাম্পিয়ান হবে আর্জেন্টিনা। আর তা দেখিয়ে দিতে হবে, ছয় কোটি ব্রাজিল সমর্থক বাংলাদেশিকে।
বাংলাদেশের সংসদে আর্জেন্টিনার পক্ষে নিন্দা
১৯৯০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার হারের পর রেফারির পক্ষপাতিত্বের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে নিন্দা প্রস্তাব উঠেছিল। পৃথিবীতে এমন দেশ আর দ্বিতীয়টি খুঁজে পেয়েছেন কি?
২৪ জুন আপনার ৩৯তম জন্মদিন। (আমরা বাঙালিরা ২ বছর গোপন করি, আশা করি, আপনারটা জেনুইন) বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের পক্ষ থেকে জানাই হৃদয় নিংড়ানো শুভেচ্ছা। এরই মধ্যে আপনি প্রমাণ করেছেন, আপনি সর্বকালের সেরা ফুটবলার। এবার সোনার কাপটি হাতে তুলে ধরে আপনি সর্বকালের সেরা অ্যাথলিটের মর্যাদায় অভিষিক্ত হোন, এই প্রার্থনা করি।
একটি বিনীত অনুরোধ
দীর্ঘজীবী হোন, সুস্থ থাকুন, আর একটা ভিডিও দিয়ে বলুন, ‘ধন্যবাদ, বাংলাদেশ!’—আমরা অন্তত তিন দিন জাতীয় উৎসব পালন করব।
আর একটি বিনীত অনুরোধ। সতর্ক থাকবেন। বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে—বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, আওয়ামী লীগ—কাউকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না। ক্যারিয়ার তো ক্যারিয়ার, জীবনই ছারখার হয়ে যেতে পারে। আপনি ফুটবল নিয়েই থাকুন। আমরা আপনাকে বিশ্বকাপ জিততে দেখেছি, কিন্তু বাংলাদেশের টক শো জিততে পারবেন না।
হৃদয় নিংড়ানো শুভেচ্ছা ও অফুরন্ত ভালোবাসা। ইতি
বাংলাদেশের ফুটবলবোদ্ধা কোটি কোটি হৃদয়ের পক্ষে রস+ আলো



