মশারির ভেতর বসে দায়িত্ব পালন করছেন নিরাপত্তা প্রহরী, সামাজিক মাধ্যমে তুমুল আলোচনা
মশারির ভেতর বসে নিরাপত্তা প্রহরী, সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা

মশারির ভেতর বসে দায়িত্ব পালন করছেন নিরাপত্তা প্রহরী, সামাজিক মাধ্যমে তুমুল আলোচনা

ভারতের হায়দরাবাদে একটি আবাসিক এলাকায় একজন নিরাপত্তা প্রহরীকে মশারি দিয়ে আপাদমস্তক ঢেকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সুরজ কুমার বৌদ্ধ নামে এক ব্যক্তি তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টে এই ভিডিও পোস্ট করার পর এটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়, যেখানে দেখা যায় রাতের পালায় কাজ করা প্রহরীটি মশার হাত থেকে বাঁচতে এভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখছেন।

মানবেতর জীবনযাপন নিয়ে উদ্বেগ

এই ঘটনায় অনেক ব্যবহারকারী আবাসিক এলাকাগুলোতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের মানবেতর জীবনযাপন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে রাতের পালায় কাজ করা নিরাপত্তা প্রহরীদের অবস্থা শোচনীয় বলে মন্তব্য করেছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, প্রহরীটি জেগে থেকে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং একজন নারীকে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়, যা পরিস্থিতির বাস্তবতা তুলে ধরে।

সুরজ কুমার বৌদ্ধ তাঁর পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, প্রহরীদের জন্য একটি নিরাপদ ও আরামদায়ক বসার জায়গার ব্যবস্থা করা কি যায় না, যখন ওই আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা নিরাপদে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে ঘুমাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, মূল সমস্যা হলো মানুষের মধ্যে সহানুভূতির অভাব, এবং এখন মানুষ দরিদ্রদের দুর্দশার প্রতি আগের মতো সংবেদনশীল নয় বলে মনে করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়া

এই ভিডিওটি আবাসিক সোসাইটিগুলোতে কর্মরত নিরাপত্তা প্রহরীদের পরিস্থিতির প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, এটা ‘ডিউটি’ নয়, এটা সরাসরি আধুনিক দাসত্ব, শুধু একটু ঘুরিয়ে করা হয়েছে। আরেকজন ব্যবহারকারী লেখেন, ‘এই ছবিটা সত্যিই হৃদয়বিদারক,’ এবং অনেকে আবাসিক এলাকার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের উদাসীনতা নিয়ে সমালোচনা করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিরাপত্তা প্রহরীরাই এক একটি আবাসিক এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকেন, অথচ তাঁদের সুযোগ-সুবিধার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমের এই আলোচনা সমাজে নিম্নবিত্ত কর্মীদের অবস্থার প্রতি সচেতনতা বাড়াতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে, এবং এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।