এপস্টেইন ফাইলে নাম নিয়ে মুখ খুললেন জিজি হাদিদ, অস্বীকার করলেন সংশ্লিষ্টতা
বিশ্বখ্যাত সুপারমডেল জিজি হাদিদ অবশেষে কুখ্যাত জেফরি এপস্টেইনের ফাইলে নিজের ও বোন বেলা হাদিদের নাম আসার ঘটনায় দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙেছেন। সাম্প্রতিক প্রকাশিত মার্কিন বিচার বিভাগের নথিতে তাদের নাম উঠে আসার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার মুখে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ‘ঘৃণ্য’ ব্যক্তির সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা কখনোই ছিল না।
ইনস্টাগ্রামে অনুসারীর মন্তব্যের জবাব
২৯ মার্চ জিজি হাদিদের ইনস্টাগ্রামে একজন অনুসারী মন্তব্য করেন যে, এপস্টেইন নথিতে নাম থাকা সত্ত্বেও তার নীরবতার কারণে তিনি তাকে ‘আনফলো’ করছেন। এর প্রেক্ষিতে জিজি একটি দীর্ঘ জবাব দেন, যেখানে তিনি বলেন, ‘এমন একজনকে নিয়ে মন্তব্য করা যাকে আপনি কখনো দেখেননি, তা-ও আবার এমন একটি প্রেক্ষাপটে—যা অত্যন্ত ভয়াবহ। আমি এতদিন কোনো মন্তব্য করিনি কারণ আমি চাইনি প্রকৃত ভুক্তভোগীদের গল্পগুলো আমার কারণে আড়াল হয়ে যাক। তবে আপনার মন্তব্য আমাকে উপলব্ধি করাল যে বিষয়টি পরিষ্কার করা জরুরি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এপস্টেইন ফাইলে নাম থাকাটা তার জন্য অত্যন্ত বিরক্তিকর। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ওই জঘন্য মানুষটির সঙ্গে আমার কখনোই কোনো সম্পর্ক ছিল না।’
২০১৫ সালের মেইল বিনিময় ও এপস্টেইনের মন্তব্য
২০১৫ সালের একটি মেইল বিনিময়ে দেখা যায়, জনৈক এক ব্যক্তি এপস্টেইনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন—জিজি ও বেলা হাদিদ কীভাবে মডেল হিসেবে এত সফল হলেন এবং প্রচুর অর্থ উপার্জন করলেন। জবাবে এপস্টেইন লিখেছিলেন, ‘কারণ তারা নির্দেশনা মেনে চলে, বিষয়টি এতটাই সহজ।’ এই নথিটি সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ইন্টারনেটে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়, যা জিজিকে তার অবস্থান পরিষ্কার করতে বাধ্য করে।
মডেলিং ক্যারিয়ারে বাবার প্রভাব নিয়ে জিজির ব্যাখ্যা
এপস্টেইনের ইঙ্গিতকেও নাকচ করেছেন জিজি হাদিদ, যেখানে বলা হয়েছিল তার মডেলিং ক্যারিয়ারে বাবার প্রভাব রয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে তিনি একটি ‘সুবিধাভোগী’ পরিবারে বড় হয়েছেন, তবে তার বাবা-মা মোহাম্মদ হাদিদ ও ইয়োলান্ডা হাদিদ তাকে সবসময় কঠোর পরিশ্রমের মূল্য শিখিয়েছেন। জিজি বলেন, ২০১২ সালে মডেলিং এজেন্সির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর থেকে আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে তিনি নিরলসভাবে পরিশ্রম করেছেন এবং তার সাফল্য শুধুই নিজের প্রচেষ্টার ফল।
এপস্টেইন কেসের পটভূমি
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে যৌন অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর জেফরি এপস্টেইন জেলহাজতে আত্মহত্যা করেন। তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত নথিতে বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে আসে, যা এখনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। জিজি হাদিদের এই স্পষ্ট বক্তব্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত করেছে, যেখানে অনেকে তার সততার প্রশংসা করছেন।
এই ঘটনা সুপারমডেল জিজি হাদিদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে, তবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে তার অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এই নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, বিশেষ করে বিনোদন জগতের অন্যান্য ব্যক্তিত্বদের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করার মতো হবে।



