হোয়াইট হাউসের কটাক্ষের শিকার হলিউড তারকা জর্জ ক্লুনি, ট্রাম্প প্রশাসনকে 'শিশুসুলভ' আক্রমণের অভিযোগ
ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করায় হোয়াইট হাউসের কটাক্ষের শিকার হয়েছেন হলিউড তারকা জর্জ ক্লুনি। ট্রাম্প প্রশাসন তাকে 'ব্যর্থ অভিনেতা' বলে অভিহিত করলে তার বিপরীতে কড়া জবাব দিয়েছেন এই অস্কারজয়ী অভিনেতা। ক্লুনির মতে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত আক্রমণ না করে বরং আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন ট্রাম্পের।
ক্লুনির বিবৃতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা
সম্প্রতি মার্কিন গণমাধ্যম 'দ্য হলিউড রিপোর্টার'-এ পাঠানো এক বিবৃতিতে ক্লুনি ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, যখন সারা বিশ্বে সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে এবং বিশ্ব অর্থনীতি চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে 'শিশুসুলভ গালিগালাজ' করার কোনো সময় নেই। ট্রাম্পের দেওয়া হুমকিকে আন্তর্জাতিক আইনের দোহাই দিয়ে 'যুদ্ধাপরাধ' হিসেবেও উল্লেখ করেন অভিনেতা ক্লুনি।
মজার ছলে তিনি আরও বলেন, 'আমাকে একজন ব্যর্থ অভিনেতা বলা হয়েছে, যার সাথে আমি সানন্দে একমত; বিশেষ করে ব্যাটম্যান অ্যান্ড রবিন সিনেমায় আমার অভিনয়ের পর।' এর আগে সামাজিক মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত না মানলে একটি আস্ত সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
ইতালিতে শিক্ষার্থীদের সামনে ক্লুনির বক্তব্য
ট্রাম্পের এমন হুমকির প্রতিবাদে ইতালিতে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সামনে ক্লুনি বলেন, 'কেউ বলতেই পারেন ট্রাম্প ভালো মানুষ। কিন্তু কেউ যখন একটি সভ্যতা ধ্বংসের কথা বলেন, তখন সেটি যুদ্ধাপরাধের শামিল। রক্ষণশীল চিন্তাধারার সমর্থক হওয়া যেতে পারে, কিন্তু শালীনতার একটি সীমা থাকা উচিত।'
ক্লুনির এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এরপর হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র স্টিভেন চুং লেখেন, 'একমাত্র জর্জ ক্লুনিই তার বাজে সিনেমা এবং নিকৃষ্ট অভিনয়ের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধ করছেন।' হোয়াইট হাউসের এই ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পরেই জর্জ ক্লুনি তার পালটা বিবৃতি দিলেন।
হলিউড তারকাদের ট্রাম্প বিরোধী অবস্থান
ট্রাম্পের এই সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে হলিউড তারকাদের সরব হওয়া এবারই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে মার্ক রাফালো, জন কিউস্যাক ও স্টিফেন কিংয়ের মতো তারকারা ট্রাম্পের নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সেলিব্রিটিদের ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, ক্লুনির মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের সমালোচনা সরকারি নীতির উপর গণমাধ্যম ও জনমতের চাপ বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থকরা দাবি করেন, অভিনেতাদের রাজনৈতিক মন্তব্য প্রায়ই তথ্যের অভাব বা পক্ষপাতিত্বে ভরা থাকে। তবে ক্লুনির প্রতিক্রিয়া দেখায় যে, হলিউড তারকারা আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তাদের কণ্ঠস্বর উচ্চকিত করতে দ্বিধা করছেন না।



