নোরা ফতেহি-সঞ্জয় দত্তের 'অশালীন' গান নিয়ে নারী কমিশনের কঠোর অবস্থান
নোরা-সঞ্জয়ের গান নিয়ে নারী কমিশনের কঠোর অবস্থান

নোরা ফতেহি-সঞ্জয় দত্তের 'অশালীন' গান নিয়ে নারী কমিশনের কঠোর অবস্থান

দক্ষিণ ভারতীয় বড় বাজেটের অ্যাকশন ছবি 'কেডি: দ্য ডেভিল'-এর নতুন গান 'সরকে চুনর তেরি সরকে' প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। গানটিতে পারফর্ম করেছেন অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত ও অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি। তবে মুক্তির পরই অনেক দর্শক গানটির ভাষা ও উপস্থাপনাকে 'অশালীন''যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ' বলে সমালোচনা করছেন। গানের সঙ্গে নাচকেও 'অশালীন' বলে নিষিদ্ধের দাবি তুলেছিলেন অনেকে। এরপর গানটি ইউটিউব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

জাতীয় নারী কমিশনের কঠোর পদক্ষেপ

গানটির অশালীন কথা এবং কুরুচিকর দৃশ্যায়নের অভিযোগে এবার নড়েচড়ে বসেছে ভারতের জাতীয় নারী কমিশন। গত সোমবার এক শুনানিতে কমিশনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সৃজনশীলতার দোহাই দিয়ে নারীর সম্মান ক্ষুণ্ণ করা মোটেই বরদাশত করা হবে না। গানটি নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর ভারতের জাতীয় নারী কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করে।

সোমবারের শুনানিতে ছবির পরিচালক প্রেম, গীতিকার রাকিব আলম এবং প্রযোজনা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকলেও অনুপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি। নোরার পক্ষ থেকে তাঁর আইনজীবী উপস্থিত হলেও কমিশন তা গ্রহণযোগ্য মনে করেনি। অভিনেত্রীকে সশরীর হাজির হওয়ার জন্য ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কমিশন। অন্যদিকে অভিনেতা সঞ্জয় দত্তকেও ৮ এপ্রিল কমিশনের সামনে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শুনানিতে কমিশনের চেয়ারপারসনের বক্তব্য

শুনানি চলাকালীন জাতীয় নারী কমিশনের চেয়ারপারসন অত্যন্ত অসন্তোষের সঙ্গে বলেন, 'সৃজনশীলতার নামে নারীর মর্যাদার সঙ্গে আপস একেবারেই করা যায় না।' যদিও ছবির নির্মাতারা দাবি করেছিলেন যে তাঁরা গানের কথার গভীর অর্থ বুঝতে পারেননি, কিন্তু কমিশন সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নির্মাতাদের ক্ষমা প্রার্থনা ও প্রতিশ্রুতি

শেষমেশ নির্মাতারা তাঁদের ভুলের জন্য লিখিত ক্ষমা চেয়েছেন এবং স্বীকার করেছেন যে গানটি সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আগামী তিন মাস তাঁরা নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কাজ করবেন এবং সেই রিপোর্ট কমিশনে জমা দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই ঘটনাটি বলিউড ও দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে সৃজনশীলতার সীমা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করেছে।

গানটি মুক্তির পর সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, যেখানে অনেকেই গানের কনটেন্টকে সমাজের মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন। চলচ্চিত্র শিল্পের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনা ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং সেন্সর বোর্ডের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে।