কবি আল মাহমুদ ও শামসুর রাহমানের দুর্লভ মুহূর্তের আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু
আল মাহমুদ-শামসুর রাহমানের আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু

কবি আল মাহমুদ ও শামসুর রাহমানের জীবন ও কবিতার আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু

ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের লা গ্যালারিতে শুরু হয়েছে আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুনের বিশেষ প্রদর্শনী 'ফটোজিয়াম: লাইফ অব পোয়েট্রি'। এই প্রদর্শনীতে বাংলা সাহিত্যের দুই কিংবদন্তি কবি আল মাহমুদ ও শামসুর রাহমানের জীবনের দুর্লভ মুহূর্তের ৫৮টি সাদাকালো আলোকচিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে উদ্বোধন হওয়া এই প্রদর্শনী চলবে আগামী ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শকরা এটি দেখতে পারবেন।

প্রদর্শনীর উদ্বোধন ও প্রধান অতিথির বক্তব্য

প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। তিনি তাঁর বক্তব্যে দুই কবির মধ্যে বিদ্যমান দূরত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। মতিউর রহমান বলেন, 'শামসুর রাহমান ও আল মাহমুদ নিজেরা নিজেদের মধ্যে যত না দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন, তার চেয়ে বেশি দূরত্ব তৈরি করেছি আমরা তাঁদের ভক্ত-অনুরাগীরা।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শামসুর রাহমানের নগরজীবন ও আল মাহমুদের গ্রামীণ প্রকৃতির প্রভাব তাঁদের কাব্যে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

দুই কবির ব্যক্তিগত ও সৃজনশীল জীবনের অন্তরঙ্গ দৃশ্য

প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া আলোকচিত্রগুলোর মাধ্যমে দর্শকরা দুই কবির ব্যক্তিগত ও সৃজনশীল জীবনের নানা দিক সম্পর্কে জানতে পারবেন। শামসুর রাহমানকে দেখা যাবে তাঁর লেখালেখি, দৈনন্দিন রুটিন এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর মুহূর্তে। অন্যদিকে, আল মাহমুদের ছবিগুলোতে তাঁর গ্রামীণ জীবন, ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতা এবং পরিবারের সান্নিধ্য ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে ২০০৪ সালের অক্টোবরে তোলা একটি ছবিতে আল মাহমুদকে শামসুর রাহমানের শ্যামলীর বাসভবনে নামাজ আদায় করতে দেখা যায়, যা দুই কবির মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্কের একটি অনন্য নিদর্শন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশেষ অতিথিদের মতামত ও আলোকচিত্রীর প্রতিক্রিয়া

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিল্পী মনিরুল ইসলাম। তিনি নাসির আলী মামুনের কাজের প্রশংসা করে বলেন, 'আলোকচিত্রের মাধ্যমে ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ করাটাই সার্থক পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফারের কৃতিত্ব।' ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লেটও এই প্রদর্শনীর গুরুত্ব তুলে ধরেন। নাসির আলী মামুন নিজে বলেন, তিনি দুই কবির মধ্যে দূরত্ব কমাতে উদ্যোগী হয়েছিলেন এবং তাঁর সংগ্রহে আরও বহু দুর্লভ ছবি রয়েছে, যা নিয়ে তিনি 'ফটোজিয়াম' নামের একটি সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠা করতে চান।

প্রদর্শনীর সার্বিক তাৎপর্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এই প্রদর্শনী শুধুমাত্র আলোকচিত্রের প্রদর্শনী নয়, বরং এটি কবিতা, সাহিত্য ও দৃশ্যকলার মধ্যে একটি গভীর সংযোগ স্থাপন করেছে। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের পরিচালক সাঁজোয়া শম্ভো বলেন, আলোকচিত্রের ২০০ বছর পূর্তির বছরে এমন একটি প্রদর্শনী আয়োজন করা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। নাসির আলী মামুনের পরিকল্পনা হলো এই সংগ্রহকে আরও সম্প্রসারিত করে একটি স্থায়ী সংগ্রহশালা গড়ে তোলা, যা বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাস সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।