দুবাইয়ের ভারতীয় কোটিপতি দম্পতির স্বর্ণের বিলাসিতা নিয়ে নেটফ্লিক্সের নতুন সিরিজ ভাইরাল
দুবাইয়ের ভারতীয় কোটিপতি দম্পতির স্বর্ণের বিলাসিতা ভাইরাল

নেটফ্লিক্সে সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘দেশি ব্লিং’ সিরিজটি নিয়ে এখন ইন্টারনেট দুনিয়ায় তুমুল শোরগোল চলছে। দুবাইয়ে বসবাসরত ভারতীয় ধনী ব্যক্তিদের বিলাসবহুল জীবন নিয়ে তৈরি এই সিরিজটি দর্শকদের কতটা মুগ্ধ করেছে তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, এর নাটকীয়তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল। বিশেষ করে সিরিজের অন্যতম চরিত্র তাবিন্দা সানপাল ও তার স্বামী আনেক্স হোল্ডিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সতীশ সানপালের অবিশ্বাস্য লাইফস্টাইল সবাইকে চমকে দিয়েছে।

স্বর্ণ দিয়ে ওজন করার প্রতিশ্রুতি

সিরিজে দুবাইয়ের এই অভিজাত চক্রে প্রবেশ করা করণ কুন্দ্রা ও তেজস্বী প্রকাশের সঙ্গে এক আড্ডায় সতীশ জানান, তাদের ১০ম বিবাহবার্ষিকীতে তিনি তার স্ত্রী তাবিন্দাকে (বিন্দা) স্বর্ণ দিয়ে ওজন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সতীশ গর্ব করে বলেন, ‘বিন্দা কখনোই টাকার জন্য আমাকে বিয়ে করেনি। ও সব ভালো গুণের অধিকারী।’ সতীশের কথার সূত্র ধরে তাবিন্দা জানান, প্রতি বছর ‘ধনতেরাস’ উৎসবে সতীশ তাকে প্রায় ৩ কেজি স্বর্ণ উপহার দেন। তাবিন্দা বলেন, ‘আমার কাছে ইতোমধ্যে ৪০ কেজি স্বর্ণ আছে। সতীশ স্বর্ণ কিনতে ভালোবাসে।’ স্ত্রীর এই কথায় সতীশও বেশ গর্বের সঙ্গে তাকে ‘গোল্ড কুইন’ বলে আখ্যা দেন।

করণ কুন্দ্রার প্রতিক্রিয়া

অবশ্য এই কথোপকথন মনে করে করণ কুন্দ্রা অকপটে বলেন, ‘বিষয়টি বেশ অদ্ভুত লেগেছিল। কারণ আমরা এমন এক সংস্কৃতি থেকে এসেছি যেখানে মানুষ এভাবে খোলামেলা টাকা-পয়সার কথা বলে না। আমরা এভাবে কথা বলা শুরু করলে তো আয়কর বিভাগ আমাদের বাড়িতেই হানা দেবে!’ তবে তিনি স্বীকার করেন, সানপাল দম্পতি দুবাইয়ের অভিজাত ক্লাবের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তাদের ক্ষমতা, প্রভাব ও অর্থ সবই আছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সতীশের সাফল্যের গল্প

শো চলাকালীন সতীশ তার শুরুর দিনগুলোর কথা স্মৃতিচারণ করে জানান, তিনি ভারতের জবলপুর থেকে এসেছিলেন এবং তার কোনও পারিবারিক সম্পদ ছিল না। মাত্র ১০ লাখ দিরহাম নিয়ে দুবাইয়ে এসে প্রথমে স্বর্ণের ব্যবসা শুরু করেন এবং আজ তিনি একজন বিলিয়নেয়ার।

বিলাসী জীবনযাপন

তাদের ৯ বছরের দাম্পত্য জীবনে ‘বেলা’ নামের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। তাবিন্দা জানান, বেলার জন্মের আগেই তার বাবা তার জন্য স্বর্ণের চামচ, স্বর্ণের থালা ও স্বর্ণের গ্লাস বানিয়ে রেখেছিলেন। তার দাবি, বেলা দুবাইয়ের সবচেয়ে ধনী শিশু। বেলার প্রথম জন্মদিনে সে একটি স্বর্ণের পোশাক ও ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণের জ্যাকেট পরেছিল এবং তার কেকটি ছাদ থেকে নিচে নামানো হয়েছিল। শুধু তাই নয়, বেলার জন্মদিনের উপহার হিসেবে সতীশ একটি কাস্টমাইজড গোলাপি রঙের রোলস-রয়েস গাড়ির অর্ডার দিয়েছেন।

নিজের বিপুল প্রতিপত্তির কথা জানিয়ে সতীশ বলেন, ‘আমরা বলিউডের কাছে যাই না, বলিউডকে আমাদের কাছে নিয়ে আসি। টাকা থাকলে তা কথা বলেই।’ সতীশের পোশাকের প্রতিও রয়েছে চরম বিলাসিতা, তিনি কোনও ডিজাইন দ্বিতীয়বার পরেন না।

সূত্র: এনডিটিভি