সদ্য প্রয়াত কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সাবেক ফুটবলার শেখ মোহাম্মদ আসলামের মেয়ে শেখ মানি মারজান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি কারিনার সঙ্গে দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পর্ক ও স্মৃতিচারণ করেন।
ফুটবল মাঠের বন্ধুত্বের ছায়া পরিবারে
ফুটবল মাঠের বন্ধুত্ব ছড়িয়ে পড়েছিল দুই পরিবারের সম্পর্কেও। সাবেক ফুটবলার শেখ মোহাম্মদ আসলাম ও কায়সার হামিদ ছিলেন প্রায় সমসাময়িক তারকা ফুটবলার। সেই সূত্রে তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও গড়ে ওঠে ঘনিষ্ঠতা। আসলামের মেয়ে শেখ মানি মারজানের সঙ্গে সদ্য প্রয়াত কারিনা কায়সারের সম্পর্কও ছিল বেশ আন্তরিক ও উষ্ণ।
ছোটবেলার স্মৃতিচারণ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মৃতিচারণ করে মানি মারজান জানান, তাদের বাবা কায়সার হামিদ ও শেখ মোহাম্মদ আসলাম নব্বইয়ের দশকে একসঙ্গে মাঠ কাঁপিয়েছেন। সেই সূত্রেই দুই পরিবারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ছোটবেলা থেকেই কারিনা তাদের পরিবারের খুব কাছের মানুষ ছিলেন।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, “কারিনা শুধু একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ছিল না, ও ছিল আমার ছোট বোনের মতো। ছোটবেলায় আমার প্রতিটি জন্মদিনে আসতো। কত শত স্মৃতি আমাদের।”
কারিনার ব্যক্তিত্বের প্রশংসা
কারিনার ব্যক্তিত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “একটু চঞ্চল হলেও কারিনা ছিল ভীষণ মায়াবী একজন মানুষ। ওর মনটা ছিল খুব সুন্দর। বড় হওয়ার পর ব্যস্ততায় দেখা কম হলেও যখনই দেখা হতো, ও আমাকে জড়িয়ে ধরতো যেন আমি ওর বড় বোন। এত আন্তরিকতা আর এত ভালোবাসা খুব কম মানুষের মাঝেই দেখা যায়।”
কাজের ক্ষেত্রে আন্তরিকতা
নিজের কাজের ক্ষেত্রেও কারিনার আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করেন মানি মারজান। তিনি জানান, নিজের প্রতিষ্ঠান ‘প্লানিং বাই শেখস’-এর জন্য সাহায্য চাইলে কারিনা কখনও না করেননি। কোনও পারিশ্রমিক ছাড়াই বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নিয়েছে, বড় আপুর মতো সম্মান ও গাইড করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও করেছে সহায়তা।’’
শেষকথা
পোস্টের শেষদিকে তিনি লিখেন, “কিছু মানুষ পৃথিবীতে খুব অল্প সময়ের জন্য আসে, কিন্তু এত ভালোবাসা আর স্মৃতি রেখে যায় যে তাদের না থাকাটা সারাজীবন কষ্ট দেয়। কারিনা তেমনই একজন।”
কারিনার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তিনি তার পরিবারের জন্য ধৈর্য প্রার্থনা করেন মানি মারজান।



