২০৮ মিলিয়ন ডলারের সিনেমা ‘ডেজার্ট ওয়ারিয়র’ বক্স অফিসে চরম ব্যর্থ
২০৮ মিলিয়ন ডলারের ‘ডেজার্ট ওয়ারিয়র’ বক্স অফিসে বিপর্যয়

হলিউডে বড় বাজেটের সিনেমা ফ্লপ হওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু এমন ব্যর্থতা খুব কমই দেখা গেছে, যেখানে ২০৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে তৈরি একটি সিনেমা যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি প্রেক্ষাগৃহ থেকে গড়ে আয় করেছে মাত্র ৬৪৭ ডলার। সৌদি আরবের উচ্চাভিলাষী ছবি ‘ডেজার্ট ওয়ারিয়র’ এখন সেই ব্যর্থতারই প্রতীক হয়ে উঠেছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট অনেকেই ইতিমধ্যে একে ইতিহাসের অন্যতম বড় বক্স অফিস বিপর্যয় বলছেন।

তারকাবহুল কাস্টিং ও পরিচালনা

ছবিটিতে ছিল বড় তারকার সমাবেশ। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের নতুন ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ অভিনেতা অ্যান্থনি ম্যাকি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অস্কারজয়ী বেন কিংসলে। পরিচালনায় ছিলেন ‘রাইজ অব দ্য প্ল্যানেট অব দ্য এপস’ পরিচালক রুপার্ট ওয়াট। তবু এত বড় আয়োজন শেষ পর্যন্ত দর্শক টানতে পারেনি।

মুক্তি ও প্রাথমিক আয়

২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পায় ‘ডেজার্ট ওয়ারিয়র’। মুক্তির প্রথম সপ্তাহ শেষে উত্তর আমেরিকার ১ হাজার ১০টি প্রেক্ষাগৃহ থেকে সিনেমাটি আয় করে মাত্র ৫ লাখ ৯৬ হাজার ডলার। অর্থাৎ, প্রতিটি প্রেক্ষাগৃহে গড় আয় ছিল মাত্র ৪৬৭ ডলার। এত বিশাল বাজেটের একটি ছবির জন্য এই পরিসংখ্যান কার্যত অবিশ্বাস্য।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গল্পের পটভূমি

সপ্তম শতকের আরবকে কেন্দ্র করে নির্মিত ছবিটির গল্পে দেখা যায়, রাজকুমারী হিন্দ অত্যাচারী সম্রাট কিসরার উপপত্নী হতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর সে মরুভূমিতে পালিয়ে যায় এবং সেখানে হানজালা নামের এক দস্যুর সঙ্গে জোট বাঁধে। হানজালার চরিত্রে অভিনয় করেছেন অ্যান্থনি ম্যাকি। সম্রাট কিসরার ভূমিকায় ছিলেন বেন কিংসলে। দুজনে মিলে এক অত্যাচারী সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গল্প তুলে ধরেছে সিনেমাটিতে। অনেকে ছবিটিকে আধুনিক সময়ের ‘লরেন্স অব অ্যারাবিয়া’-র উত্তরসূরি বলেও বর্ণনা করেছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নির্মাণের নাটকীয়তা

পর্দার বাইরের বাস্তবতা ছিল আরও নাটকীয়। ডেডলাইন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্মাণের সময় বাজেট অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। একই সঙ্গে পরিচালক রুপার্ট ওয়াটের সঙ্গে সৃজনশীল মতবিরোধও তৈরি হয়। একপর্যায়ে তিনি প্রকল্প ছেড়ে চলে যান, পরে আবার ফেরেন। শুটিং শেষ হওয়ার পর ছবিটি দীর্ঘদিন পোস্ট-প্রোডাকশনে আটকে ছিল। এমনকি ইউনিটের অনেক সদস্যও সন্দেহ করেছিলেন, আদৌ সিনেমাটি কখনো মুক্তি পাবে কি না।

সৌদি আরবের প্রত্যাশা

ছবিটি নিয়ে সৌদি আরবের প্রত্যাশাও ছিল অনেক বড়। দেশটির ট্রিলিয়ন ডলারের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড বা পিআইএফ বিনোদন ও ক্রীড়া খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। সেই পরিকল্পনার অন্যতম বড় প্রকল্প ছিল ‘ডেজার্ট ওয়ারিয়র’। উদ্দেশ্য ছিল সৌদি আরবকে আন্তর্জাতিক বিনোদন মানচিত্রে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়া।

সৌদি আরবেও ব্যর্থতা

কিন্তু নিজের দেশেও ছবিটি মুখ থুবড়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই সময়ে সৌদি আরবেও মুক্তি পায় সিনেমাটি। ওপেনিং উইকএন্ডে দেশটিতে ৬ হাজার ১০০টি প্রদর্শনী থেকে আয় হয় মাত্র ৮৭ হাজার ডলার।

প্রতিকূল সময়

শিল্পসংশ্লিষ্ট কয়েকজন মনে করছেন, ছবি মুক্তির সময়টিও অনুকূলে ছিল না। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে মরুভূমির যুদ্ধভিত্তিক একটি সিনেমা দর্শকদের আকৃষ্ট করতে পারেনি। এক অভ্যন্তরীণ সূত্রের ভাষায়, ‘বাস্তবের মরুভূমির যুদ্ধ চলার সময় মানুষ আরেকটি মরুভূমির যুদ্ধের সিনেমা দেখতে আগ্রহী ছিল না।’

এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও নাকি ছবি মুক্তির পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলেছিল। সূত্রটি জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বোমা হামলার পর স্টুডিও ছবি মুক্তির তারিখ আরও পিছিয়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিল। কিন্তু পাঁচ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর তারা আর নতুন করে বিলম্ব করতে চায়নি।

সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছবিটি নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন—১৫০ মিলিয়ন ডলার কোথায় খরচ হলো? কারণ, প্রচারণায় যে তেমন অর্থ ব্যয় হয়নি, সেটি প্রায় সবাই একমত। একজন এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘আমি জীবনে এই সিনেমার নামই শুনিনি। তাহলে ১৫০ মিলিয়ন ডলার কোথায় গেল?’ আরেকজনের মন্তব্য, ‘এত খারাপ মার্কেটিং, সিনেমাটি যে আছে, সেটাই জানতাম না।’

অনেকে আবার বলেন, তাঁরা প্রথমবার ছবিটির ট্রেলার দেখেই এর অস্তিত্ব সম্পর্কে জেনেছেন। একজন লিখেছেন, ‘এই প্রথম সিনেমাটির কথা শুনলাম। সম্ভবত এ কারণেই কোনো প্রচারণা চোখে পড়েনি।’

তবে পুরো আলোচনা যে কেবল নেতিবাচক ছিল, তা নয়। কিছু দর্শক ট্রেলার দেখে আগ্রহও প্রকাশ করেছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘ট্রেলার দেখে খারাপ লাগেনি, বরং মন্দ না মনে হয়েছে।’ আরেকজন সরাসরি লিখেছেন, ‘সিনেমাটা ভালো। দেখে নিতে পারেন।’

ডেডলাইন ও নিউজডটকমডটএইউ অবলম্বনে