‘সায়েন্টোলজি স্পিডরান’ নামটি শুনলে অনেকের চোখে ভেসে ওঠে টাইট শর্টস পরা টম ক্রুজের দৌড়ানোর ছবি। কিন্তু লস অ্যাঞ্জেলেসের হলিউড বুলেভার্ড থেকে শুরু করে সিডনি বা ব্রিসবেনের রাস্তায় যা ঘটছে, তা আদতে কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়। এটি টিকটক ও সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন এক উদ্ভট ট্রেন্ড, যা এখন বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
শুরুটা যেভাবে
এই উন্মাদনার সূত্রপাত গত মার্চে, যখন সোহায়লি নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর লস অ্যাঞ্জেলেসের চার্চ অব সায়েন্টোলজিতে অতর্কিতে ঢুকে পড়ার একটি ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওটি ডিলিট হওয়ার আগে প্রায় ৯ কোটি বার দেখা গিয়েছিল। এরপরই শুরু হয় অনুকরণ। একদল তরুণ সায়েন্টোলজি সেন্টারের ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা শুরু করে এবং ভিডিও ধারণ করে টিকটকে আপলোড করতে থাকে। তাদের লক্ষ্য একটাই—কে ভবনের কত গভীরে পৌঁছাতে পারে।
মিনিয়ন থেকে ডাইনোসর: অদ্ভুত সব ছদ্মবেশ
এই স্পিডরান বা ঝটিকা অভিযানে অংশ নেওয়া তরুণরা নিজেদের পরিচয় লুকাতে ব্যবহার করছে বিচিত্র সব ছদ্মবেশ। কেউ ডাইনোসরের কস্টিউম পরছে, কেউ বিড়ালের মাস্ক, আবার কেউবা যিশু কিংবা জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র ‘মিনিয়ন’ সেজে হাজির হচ্ছে। এমনকি তারা ভবনের ব্লুপ্রিন্ট বা নকশা তৈরি করে সেখানে ঢোকার পরিকল্পনাও করছে। অনেকে আবার ভেতরে ঢুকে চিৎকার করে টম ক্রুজকে দেখতে চাচ্ছে।
এবার অস্ট্রেলিয়ায় হানা
আমেরিকা ও যুক্তরাজ্যের পর এই ট্রেন্ড এখন আছড়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে। গত শনিবার সিডনি ও ব্রিসবেনে সায়েন্টোলজি ভবনের সামনে জড়ো হয় শত শত তরুণ। সিডনিতে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ দাঙ্গা দমনকারী দল পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। সেখান থেকে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে ব্রিসবেনে এক কিশোরকে পুলিশের গাড়ির ওপর বিএমএক্স সাইকেল চালাতে দেখা যায়। সেখানেও দুজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সায়েন্টোলজি আসলে কী?
১৯৫০-এর দশকে লেখক এল রন হাবার্ডের হাত ধরে এই চার্চের যাত্রা শুরু। হলিউড তারকা টম ক্রুজ ও জন ট্রাভোল্টা এর বিখ্যাত অনুসারী। অস্ট্রেলিয়াতেও এর বড় বড় স্থাপনা ও অনুসারী রয়েছে। তবে এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল ধরে খুব নিয়ন্ত্রিত গোষ্ঠী হওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যদিও তারা বরাবরই তা অস্বীকার করে এসেছে।
সাবেক সদস্য ও কর্মীদের প্রতিক্রিয়া
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই ট্রেন্ড নিয়ে খুশি নন খোদ সায়েন্টোলজির সাবেক সদস্য ও সমালোচকরা। অভিনেত্রী লেয়াহ রেমিনি এই ট্রেন্ডের সমালোচনা করে এক্সে লিখেছেন, ‘সায়েন্টোলজির বিপদগুলো তুলে ধরার দিকে মনোযোগ দিন, একে তামাশায় পরিণত করবেন না।’ যুক্তরাজ্যে সায়েন্টোলজি বিরোধী আন্দোলনের নেতা আলেকজান্ডার বার্নস রসের মতে, ‘সায়েন্টোলজি নিয়ে হাসাহাসি করার কিছু নেই। এটি একটি বিপজ্জনক ও ক্ষতিকারক সংস্থা।’
কী বলছে চার্চ অব সায়েন্টোলজি?
অস্ট্রেলিয়ার গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বিবৃতিতে চার্চ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘ইন্টারনেটে প্রচার পাওয়ার নেশায় কিছু মানুষ বারবার ধর্মীয় উপাসনালয়ে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করছে। এতে আমাদের কর্মী ও দর্শনার্থীরা বিপদের মুখে পড়ছেন। সায়েন্টোলজি চার্চ শান্তিপূর্ণ জায়গা, একে ভাইরাল স্টান্টে পরিণত করা কোনো সাংবাদিকতা বা প্রতিবাদ হতে পারে না।’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান



