কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য জাপান-ইউএনএইচসিআরের ২৬ লাখ ডলারের সহায়তা চুক্তি
কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য জাপান সরকার এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ২৬ লাখ মার্কিন ডলারের মানবিক সহায়তার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইউএনএইচসিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি এবং বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইসেনের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সহায়তার মূল খাতসমূহ
এই অর্থ বিভিন্ন মানবিক খাতে ব্যবহার করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে:
- আশ্রয় নির্মাণ সামগ্রী: প্রায় ৩,৩০০ রোহিঙ্গা পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় মেরামত উপকরণ সরবরাহ করা হবে।
- প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা: স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পোস্টের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা হবে এবং ১৬২ জন শরণার্থীকে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
- পরিচ্ছন্ন রান্নার চুলা: ৩২ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের জন্য এলপিজি বিতরণ কার্যক্রমের পরিপূরক হিসেবে এই চুলা সরবরাহ করা হবে, যা নারী ও কিশোরীদের নিরাপদ রান্নার সুযোগ দেবে এবং শিশুদের শ্রেণিকক্ষে বেশি সময় কাটাতে সাহায্য করবে।
এছাড়া, ৩০০ জন আশ্রয় স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং এই সহায়তা পরিবেশগত ক্ষতি কমিয়ে পাহাড়ি বনভূমি রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।
দাতাদের প্রতিক্রিয়া ও গুরুত্ব
ইউএনএইচসিআরের রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইসেন বলেন, "রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুতির নবম বছরে প্রবেশের প্রাক্কালে জাপানের জনগণের ধারাবাহিক সহায়তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বৈশ্বিক সহায়তায় বড় ধরনের কাটছাঁট জীবনরক্ষাকারী কর্মসূচিকে হুমকির মুখে ফেলছে এবং অর্জিত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের উদার আতিথেয়তাপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে অংশীদারিত্বে শরণার্থীদের মর্যাদা ও কল্যাণ রক্ষা করতে হবে, যতক্ষণ না মিয়ানমারে রাজনৈতিক অগ্রগতি নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি বলেন, "জাপানের সহায়তা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনমান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাস্তব ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।"
দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও ঐতিহাসিক সহায়তা
বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ে ইউএনএইচসিআর ও এর অংশীদাররা রোহিঙ্গা মানবিক সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ সালের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) হালনাগাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০১৭ সাল থেকে জাপান রোহিঙ্গা সংকটে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে প্রায় ২৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা প্রদান করেছে।
বর্তমানে বৈশ্বিক মানবিক সহায়তা ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে, তাই টেকসই সমাধান অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত জাপানের মতো দাতাদের ধারাবাহিক ও দৃঢ় সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এই সহায়তা শুধু তাত্ক্ষণিক চাহিদা পূরণই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
