রোহিঙ্গা শরণার্থী সংখ্যা বেড়ে ১১ লাখ ৮২ হাজারে, নতুন আগমন অব্যাহত
রোহিঙ্গা শরণার্থী সংখ্যা বেড়ে ১১ লাখ ৮২ হাজারে

রোহিঙ্গা শরণার্থী সংখ্যা বেড়ে ১১ লাখ ৮২ হাজারে, নতুন আগমন অব্যাহত

জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নতুন করে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩২৭ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে নিবন্ধিত তথ্যে উঠে এসেছে। গত ডিসেম্বরে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৩২ জন, যা বর্তমানে সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

ক্যাম্পে মোট শরণার্থীর পরিসংখ্যান

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ইউএনএইচসিআর-এর মাসিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্যাম্পে মোট ১১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫৫ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী চিহ্নিত করা গেছে। এই সংখ্যা আগের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রোহিঙ্গা সংকটের তীব্রতা নির্দেশ করছে।

নতুন শরণার্থীদের আগমনের কারণ

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে লক্ষ্যযুক্ত সহিংসতা এবং নির্যাতনের কারণে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতির ফলে রোহিঙ্গারা নিরাপত্তার খোঁজে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে। ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ইউএনএইচসিআর ১০ লাখ ৩৯ হাজার ৪২৮ জন রোহিঙ্গার নিবন্ধন করেছে, যারা ১৯৯০ এবং ২০১৭ সাল থেকে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে ২৯ হাজার ৪৩৩ জন ১৯৯০ সালের পর এসেছেন এবং ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৫ জন ২০১৭ সালের পর এসেছেন।

সংঘাতের প্রভাব ও বায়োমেট্রিক সনাক্তকরণ

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কারণে ২০২৪ সাল থেকে নতুন শরণার্থীরা বাংলাদেশে নিরাপত্তার সন্ধান অব্যাহত রেখেছে। ফলস্বরূপ, ২০২৪ সালের শেষের দিকে ক্যাম্পগুলোতে নতুন আগতদের একটি ঢেউ চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং তাদের বায়োমেট্রিক সনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলছে। এই পদক্ষেপ শরণার্থীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে।

শরণার্থীদের জনসংখ্যার বৈশিষ্ট্য

শরণার্থীদের মধ্যে ৭৮ শতাংশ নারী এবং শিশু, যা একটি উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান। এছাড়া, ১২ শতাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, একক পিতা-মাতা, গুরুতর চিকিত্সা অবস্থার সঙ্গে যারা রয়েছে, সঙ্গীহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক, ঝুঁকিতে থাকা বয়স্ক ব্যক্তি এবং অন্যদের আইনি ও শারীরিক সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। এই দুর্বল গোষ্ঠীগুলোর জন্য বিশেষ সহায়তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা জরুরি হয়ে উঠেছে।

ইউএনএইচসিআর-এর এই প্রতিবেদন রোহিঙ্গা সংকটের চলমান প্রকৃতি এবং বাংলাদেশের উপর এর প্রভাবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ ও সহায়তা এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।