রামমন্দির অনুদান আত্মসাৎ: যোগী সরকারের সমালোচনা আসাদউদ্দিন ওয়াইসির
রামমন্দির অনুদান আত্মসাৎ: ওয়াইসির যোগী সমালোচনা

ভারতের রামমন্দির নির্মাণের জন্য ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি রুপি অনুদানের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় এবার উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী উগ্র হিন্দুত্ববাদী যোগী আদিত্যনাথের সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

অর্থ আত্মসাতের পরিমাণ ও উদ্ধার

এদিকে অনুদানের ঠিক কী পরিমাণ অর্থ চুরি গেছে তার সঠিক পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। তবে মন্দিরের হিসাব থেকে প্রায় ৭ বা সাড়ে ৭ কোটি রুপি নগদ অর্থের হিসাব মিলছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে এ পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ রুপি উদ্ধার করেছে পুলিশ বলে জানা গেছে।

ওয়াইসির বক্তব্য ও বিতর্ক

এর আগে, গতকাল উত্তর প্রদেশের পশ্চিমের বিজনৌর জেলায় এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে হায়দরাবাদের এই আইনপ্রণেতা ব্যঙ্গ করে এ কথা বলেন। ওয়াইসির মতে, ‘রামমন্দির ট্রাস্টে যদি কোনো মুসলিম থাকতেন, তাহলে এতক্ষণে সরকার তাকে এনকাউন্টারে হত্যা করত এবং তার বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিত।’ অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণে ‘বিলম্ব’ হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওয়াইসি। পাশাপাশি বহুল আলোচিত এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পুলিশ এমনকি হেফাজতে নেওয়ার আবেদনও করছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত জনতা জোরালো করতালির মাধ্যমে তার এই বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মন্দির উদ্বোধন ও অনুদান সংগ্রহ

এর আগে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রামমন্দির তৈরির কাজ উদ্বোধন করেন নরেন্দ্র মোদি। মন্দির নির্মাণের জন্য ভক্তরা কোটি কোটি রুপি আর্থিক অনুদান ও গয়না দান করেন। মোদির মন্দির নির্মাণকাজ উদ্বোধনের আড়াই বছর পর এখন সেই অনুদানের কোটি কোটি রুপি নয়-ছয় ও আত্মসাতের অভিযোগে ভারতজুড়ে তোলপাড় চলছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজনৈতিক প্রভাব ও পদত্যাগ

রামমন্দিরের অনুদানের অর্থ চুরির ঘটনা ভারতজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং তা বড় ধরনের রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলো যোগী আদিত্যনাথ সরকারকে তীব্র সমালোচনার মুখে ফেলেছে। জানা যায়, চম্পত রাইয়ের পদত্যাগের পর ট্রাস্টি অনিল মিশ্রও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

এফআইআর ও গ্রেপ্তার

এদিকে গত ২৫ জুন ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহনের অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় প্রথম এফআইআর দায়ের করা হয়। এফআইআরে আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়। তারা হলেন-অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব ও রাম শঙ্কর যাদব (টিন্নু নামেও পরিচিত)। তাদের সবাই রামমন্দিরের অনুদান গণনার কাজে যুক্ত কর্মী। তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে গত ২৬ জুন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করে এমন যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করবে।