আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে প্রথম আলো ট্রাস্টের আয়োজনে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে এই মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ মাদককে ‘না’ সূচক ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও পোস্টার নিয়ে অংশ নেন।
মাদকের ভয়াবহতা ও প্রতিরোধের আহ্বান
মানববন্ধনে বক্তারা মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবন নয়, বরং পুরো পরিবার ও জাতিকেই ধ্বংস করে দেয় বলে মন্তব্য করেন। তারা তরুণদের মাদক থেকে দূরে থাকার প্রতিজ্ঞা করার আহ্বান জানান।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক গোলাম আযম বলেন, ‘মাদক বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় না, মাদক আসে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে। মাদক সন্তানদের ধ্বংস করে দিচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে বর্জন করতে হবে। পরিবারের সবাই যেন মাদককে না বলে।’ তিনি প্রথম আলো ট্রাস্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক ভূমিকা পালন করতে হবে সব গণমাধ্যমকে।’
তরুণদের সচেতনতা ও সৃষ্টিশীল কাজে যুক্ত করার তাগিদ
সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির উপাচার্য পারভীন হাসান মনে করেন, কিশোর–তরুণেরা খেলাধুলা, ছবি দেখা কিংবা বই পড়ার অভ্যাসের মধ্যে থাকলে মাদক থেকে দূরে থাকতে পারবে। মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘অনেক সময় মাদক গ্রহণটাকে ফ্যাশন বলে মনে করা হয়; কিন্তু এটা আসলে ফ্যাশন নয়। মাদক ব্যক্তিকে তো ধ্বংস করেই, এমনকি পরিবারসহ আশপাশের পরিবেশ-পরিস্থিতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলে।’
কথাসাহিত্যিক ও মনোরোগবিশেষজ্ঞ মোহিত কামাল তরুণদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার প্রিয় বন্ধুরা সতর্ক হও, সচেতন হও। প্রতিজ্ঞা করো যে নিজের শরীরের ভেতরে আমি এই দুষ্ট ও বিষাক্ত জিনিস ঢোকাব না। নিজের জীবন, বাবা–মায়ের জীবন ও পরিবারকে তছনছ করব না—এটাই হোক আজকের তরুণ প্রজন্মের প্রতিজ্ঞা।’
ক্রিকেট তারকা ও পুলিশ কর্মকর্তার মতামত
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘মাদক শুধু একটা জীবনকে ধ্বংস করে না, তার আশপাশে যারা আছে, তাদের সবাইকে ধ্বংস করে দেয়। মাদক একটা পরিবার, জাতি ধ্বংস করে দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘সুস্থ–স্বাভাবিক চোখে পৃথিবীটা যত সুন্দর, মাদকসেবীর চোখে কখনোই অতটা সুন্দর হয় না।’
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার আবদুল্লাহ আল ইমরান বলেন, ‘মাদক গ্রহণ, পরিবহন থেকে শুরু করে মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত যেকোনো ব্যক্তিকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে সাজার ব্যবস্থা করা—এটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজের অংশ। কিন্তু শুধু সাজা দিয়ে সবকিছু শেষ করা যায় না। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন প্রত্যেক নাগরিকের সচেতনতা এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।’
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও সমাপ্তি
মানববন্ধনে গীতিকার কবির বকুল তাঁর লেখা মাদকবিরোধী গান ‘বন্ধু সময় হলো, মাদককে না বলো’ গেয়ে শোনান। এ গানে সুর ও কণ্ঠ দিয়েছিলেন শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। এ ছাড়া বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ গান গেয়ে শোনান শিল্পী অনিক। প্রথম আলো ট্রাস্টের সমন্বয়ক মাহবুবা সুলতানার কণ্ঠে ‘ধনধান্য পুষ্পভরা’ গানের মধ্য দিয়ে মানববন্ধন শেষ হয়।
প্রথম আলো ট্রাস্টের এই আয়োজনে সহযোগী ছিল বন্ধুসভা। ‘মাদকের ভয়াবহতা থেকে সমাজকে মুক্ত করে তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে’ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।



