নাইজারের বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা
নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে অবস্থিত দেশটির বৃহত্তম বিমানবন্দর ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার সশস্ত্র হামলায় ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট সংগঠন জামা'আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন (জেএনআইএম)। গত পাঁচ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে একই বিমানবন্দরে এটি দ্বিতীয় হামলা।
হামলার বিবরণ
প্রধানত মুসলিম অধ্যুষিত দেশটির বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সকালে নামাজ শেষ করার পরপরই রাজধানীর ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। নাইজারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২২ জন হামলাকারী, ১১ জন সেনাসদস্য এবং দুইজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। নিহতদের পাশাপাশি আরও চারজন আহত হয়েছেন।
নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিক্রিয়া
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকালের মধ্যেই সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী পালিয়ে যাওয়া হামলাকারীদের খুঁজতে অভিযান শুরু করে। ২০ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে আরপিজি-৭ লঞ্চার, একে-৪৭ রাইফেল, বিস্ফোরক, গ্রেনেড, যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং হাজার হাজার রাউন্ড গুলিসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য
বিমানবন্দরের কাছাকাছি বসবাসকারী লাওয়ালি সালহা বিবিসিকে বলেন, সকাল প্রায় ৫টা ৫০ মিনিটে নামাজ শেষ করার কিছুক্ষণ পর তারা একটি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। পরে তারা বুঝতে পারেন কী ঘটছে। স্থানীয় সশস্ত্র বাসিন্দারাও হামলাকারীদের খোঁজার অভিযানে যোগ দেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনী বেসামরিক লোকজনকে এতে জড়ানো থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, হামলাকারীরা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মিশে যাওয়ায় তাদের শনাক্ত করা সহজ ছিল না। আত্মরক্ষার জন্য অনেক বেসামরিক ব্যক্তি দা ও লাঠি হাতে নেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারম্যান মাহমুদ আলি ইউসুফ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি নাইজারের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেন, যাদের পদক্ষেপের ফলে হামলা প্রতিহত করা এবং বিমানবন্দরের স্থাপনাগুলো সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়েছে।
বিমানবন্দরের গুরুত্ব
ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নাইজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোর একটি। এটি বেসামরিক বিমান চলাচলের কেন্দ্র হওয়ার পাশাপাশি একটি সামরিক ঘাঁটিও। বিমানবন্দরটিতে সাহেল রাষ্ট্র জোটের (এইইএস) বিভিন্ন স্থাপনাও রয়েছে। এই জোটে নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসো অন্তর্ভুক্ত। জিহাদি সহিংসতা মোকাবিলায় ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে ক্ষমতায় আসা সামরিক সরকারের নেতৃত্বে থাকা এই তিন দেশই বর্তমানে জান্তার শাসনে রয়েছে।
পূর্ববর্তী হামলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
এর আগে জানুয়ারিতে একই বিমানবন্দরে হামলায় চার সেনাসদস্য আহত এবং ২০ হামলাকারী নিহত হয়েছিল বলে জানিয়েছিল নাইজারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সন্ত্রাসী ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে বিমানবন্দরের আশপাশের কয়েকটি এলাকা গুঁড়িয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি বিমানবন্দরের সীমানা প্রাচীর সম্প্রসারণ এবং ৩৫০টির বেশি নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।



