দিনাজপুরে এক ব্যক্তিকে অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন যুবশক্তির নেতা আরিফ মুনসহ তিনজনকে আটক করেছে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ। গতকাল সোমবার বিকেলে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠ থেকে অপহৃত ব্যক্তিসহ তাঁদের আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরনবী।
আটক ও অপহৃত ব্যক্তিরা কারা
আটক আরিফ মুন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক। অপর দুজন হলেন তাঁর অনুসারী যুবশক্তির নেতা শহরের বালুয়াডাঙ্গা এলাকার হাসিন ইসরাক (২২) ও আজমীর হোসেন ওরফে প্রেম (২২)। আর অপহৃত ব্যক্তি হলেন সদর উপজেলার খোশালপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুস সামাদ (৫৪)।
ঘটনার বিবরণ
কোতোয়ালি থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে অপহৃত সামাদের ছেলে মো. মামুন তাঁর বাবাকে অপহরণ করা হয়েছে—এই মর্মে থানায় একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, রোববার রাতে সামাদ শহরের গোপালগঞ্জ পাঁচমাইল এলাকায় তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। রাত ৯টার দিকে রুবেল (৩৫) ও রোহান (৩০) পরিচয়ে দুজন আরও ১০ থেকে ১২ জনকে নিয়ে ওই বাড়িতে যান। তাঁরা সামাদকে মারধর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান।
উদ্ধার ও আটক
অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার এক দিন পর সোমবার বিকেলে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠ থেকে আবদুস সামাদকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় এনসিপির তিন সদস্যকেও আটক করা হয়। বিকেলে আটক ব্যক্তিদের থানায় নেওয়া হলে এনসিপির অন্য নেতা–কর্মীরা তাঁদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কোতোয়ালি থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে এনসিপি নেতাদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।
এনসিপি নেতাদের বক্তব্য
জেলার কয়েকজন এনসিপি নেতার ভাষ্য, সামাদ জমি কেনাবেচার কাজ করেন। কিছুদিন আগে এনসিপি নেতা আজমীর হোসেনের এক আত্মীয় মজিবর রহমানকে একটি জমির মালিকানা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তিনি সাড়ে চার লাখ টাকা নেন। তবে পরে জমির মালিকানা বুঝিয়ে দিতে পারেননি। উল্টো মজিবরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। বিষয়টি নিয়ে আজমীর হোসেন দলীয় অন্য নেতা–কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে রোববার রাতে তিনি তাঁর অনুসারীদের নিয়ে সামাদকে বাড়ি থেকে ডেকে আনেন এবং সাড়ে চার লাখ টাকা পরিশোধের জন্য বলেন। সোমবার বিকেলে সামাদের ছেলের টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও তিনি উল্টো পুলিশের কাছে বাবাকে অপহরণের অভিযোগ করেন।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরনবী বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে টাকা লেনদেনের কোনো বিষয় আছে। এ বিষয়ে থানায় একটি মামলার প্রক্রিয়া চলমান।



