চট্টগ্রাম নগরের কালুরঘাট বিসিক শিল্প এলাকায় অবস্থিত ‘ইয়ুনেস্কো’ পোশাক কারখানাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে পাঁচ সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে ফাঁকা গুলি করতে করতে তারা এলাকা ত্যাগ করে, যা এলাকাজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় লোকজন বলছেন, তারা আলোচিত সন্ত্রাসী ‘বোরহান বাহিনীর’ সদস্য। ঘটনার পর চান্দগাঁও এলাকার এক যুবদল নেতাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। তখন প্যান্টের পেছনের পকেট থেকে পিস্তল বের করে পোশাক কারখানার দিকে এক যুবক গুলি ছোড়ে। এর ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার দুপুরে বিসিক শিল্প এলাকার একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সামনে পাঁচ জনের একটি দল অবস্থান নেয়। তারা প্রথমে ইয়ুনেস্কো কারখানার সামনে যায়। সেখানে সিকিউরিটির সঙ্গে কথা বলে। একপর্যায়ে পাঁচ জনের একজন গেট থেকে সামনে এসে রাস্তায় অবস্থান নিয়ে কোমর থেকে পিস্তল বের করে কারখানা লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি ছোড়ে। তারপর হাত ওপরে তুলে প্রকাশ্যে পর পর দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলি করতে করতে তারা শিল্প এলাকা ছেড়ে যায়। এ ঘটনার পর বিসিক এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ৩৭ সেকেন্ডের ওই সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কারখানার সামনে থেকে গোলাপি টি-শার্ট পরা এক যুবক সড়কের দিকে গুলি করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছে। এ সময় তার পাশ দিয়ে কয়েকজন পথচারী হেঁটে যাচ্ছেন। এরপর সড়কে দাঁড়িয়ে কারখানার দিকে তাক করে ফাঁকা গুলি ছোড়ে টি-শার্ট পরা ওই যুবক। পরে সড়কের ধরে এগিয়ে যাওয়ার সময়ও তাকে পিস্তল উঁচিয়ে আবার গুলি করতে দেখা যায়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের বিভিন্ন কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা নিরাপত্তার আশঙ্কায় দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান।
হুমকি ও স্থানীয় অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুলির ঘটনার কিছুক্ষণ পর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও যুবদলের এক নেতার মোবাইল ফোনে কল করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একইসঙ্গে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে বিসিক শিল্প এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক স্বার্থকে কেন্দ্র করে ‘বোরহান বাহিনী’ সক্রিয় রয়েছে। শিল্প এলাকার বিভিন্ন কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে গ্রুপটি নানা সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোস্তাফা স্বপন বলেন, ‘ঘটনাটি আমাদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বিসিক এলাকায় গুলির ঘটনার তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। হুমকি পাওয়া ব্যক্তি ও কারখানার মালিককে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তদন্তে কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। পুলিশ নিজ উদ্যোগে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ চলছে।’
প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বিসিক শিল্প এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা গুলির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, শিল্পাঞ্চলে সশস্ত্র গ্রুপগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।



