সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে বাগেরহাটের খানজাহান আলীর মাজারের কুমিরকে জীবন্ত কুকুর খাওয়ানোর দৃশ্য। কুকুরটি অসহায়ের মতো ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে যায়, কিন্তু মানুষ বাধা না দিয়ে উল্লাস করে দেখে। ঘটনার নিষ্ঠুরতা আশপাশের মানুষের চোখে না পড়লেও নেটিজেনদের ক্ষুব্ধ করে।
প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার আরও উদাহরণ
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কুকুরের লেজে ইট বেঁধে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কুকুরটি প্রাণপণে বাঁচতে চাইলেও তার ছটফট করাকে বিনোদন মনে করেন অনেকে। যারা বাঁচাতে পারত, তারা বাঁচানোর পরিবর্তে মৃত্যুর উত্তেজনা উপভোগ করেন। কুকুরটি মানুষকে বিশ্বাস করেছিল, তাই বাধা দেয়নি বা পালায়নি।
নিষ্ঠুরতার উৎস ও শিক্ষা
প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা দুর্বলের বিরুদ্ধে অত্যাচার। যখন একটি শিশু দেখে বড়রা কুকুরকে লাথি মারছে বা পাখির ডানা ভাঙছে, তখন সে শেখে দুর্বলকে আঘাত করা যায় এবং এটি আনন্দের বিষয়। এই শিক্ষাই পরে স্কুলে বুলিং, পারিবারিক সহিংসতা ও সমাজে ক্ষমতার অপব্যবহারে রূপ নেয়।
মানবিকতার উদাহরণ
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে শ্রীলঙ্কার একটি ভিডিও। একটি বাচ্চা মেয়ে কোলে বিড়াল নিয়ে জমির আল ধরে হাঁটছে, আর তার পেছনে হাঁটছে একটি শজারু। দুটি প্রাণীর সঙ্গে মানবশিশুর এই অসাধারণ সম্পর্ক দেখে নেটিজেনরা আপ্লুত। ভিডিওটি প্রথমে বাংলাদেশের বলে ভুল হলেও পরে শ্রীলঙ্কার বলে জানা যায়।
নিষ্ঠুরতা রোধে করণীয়
প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা রোধে পরিবেশ ও চর্চার পরিবর্তন জরুরি। ড. ফারজানা আলম বলেন, 'দিন শেষে আমরা কেউই বিচ্ছিন্ন নই। বিচ্ছিন্ন থেকে যা ইচ্ছা তাই করার মাশুল কী হতে পারে, সেটা এর মধ্যেই ভালোভাবে দৃশ্যমান হয়েছে। নিজেদের স্বার্থে হলেও এই পৃথিবীতে সবাইকে নিয়েই আমাদের থাকতে হবে; দেয়ার ইজ নো প্ল্যানেট বি।'



