ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী হয়ে ওঠা বাংলাদেশি ব্লগার সানিউর রহমান গ্রেফতার
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের পবিত্র তীর্থনগরী ঋষিকেশে বাংলাদেশি নাগরিক সানিউর রহমানকে স্থানীয় পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে 'সত্যনিষ্ঠা আর্য' নামে একজন সাধুর ছদ্মবেশে অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছিলেন এবং ধর্মীয় বক্তৃতার মাধ্যমে অনুসারীদের প্রভাবিত করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গ্রেফতারের বিস্তারিত বিবরণ
মুম্বাইভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম প্রাতকাল এবং লক্ষ্ণৌভিত্তিক পঞ্চজন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, লক্ষ্মণ ঝুলা এলাকার পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে সানিউর রহমানকে আটক করে। তিনি নিজেকে 'সত্যনিষ্ঠা আর্য' বলে পরিচয় দিতেন এবং নিয়মিত ধর্মীয় ও দার্শনিক বক্তৃতা দিয়ে ভক্তদের মাঝে প্রভাব বিস্তার করতেন।
রাজ্য সরকারের 'অপারেশন কালনামী' বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এই গ্রেফতার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, সানিউর রহমান ওরফে সত্যসাধু বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার বাসিন্দা ছিলেন।
অবৈধ প্রবেশ ও পরিচয় গোপন করার কৌশল
প্রাথমিক তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, তিনি ২০১৬ সালে নেপাল হয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় সীমান্ত অতিক্রম করেন। এরপর থেকে তিনি বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই দেশটিতে অবস্থান করছিলেন। তার পরিচয় গোপন করার কৌশল সম্পর্কে পুলিশ জানিয়েছে:
- তিনি তার আসল নাম পরিবর্তন করে 'সত্যনিষ্ঠা আর্য' রাখেন
- একটি ভুয়া আধার কার্ড তৈরি করে ভারতীয় নাগরিকত্বের ভান করেন
- ঋষিকেশ ও লক্ষ্মণ ঝুলা এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন
- বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তার ব্যাপক পরিচয় ছিল
গ্রেফতারের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ
সম্প্রতি তিনি লক্ষ্মণ ঝুলার একটি আশ্রমে যান, যেখানে নিয়মিত পুলিশি তল্লাশির সময় তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ বেশ কিছু আপত্তিকর নথি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ইতিমধ্যে ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং বিদেশি আইন ২০২৫-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। তার কার্যক্রম ও যোগাযোগের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।
সানিউর রহমানের পটভূমি ও রূপান্তর
সানিউর রহমান ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলনে সক্রিয় একজন ব্লগার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তবে ২০১৬ সালের দিকে তিনি ভারতে পাড়ি জমান এবং সেখানে ধীরে ধীরে তার পরিচয় বদলে তিনি একজন উগ্র হিন্দুত্ববাদীতে পরিণত হন।
গত বছর বড়দিনের সময় তিনি স্থানীয় একটি চার্চে গিয়ে খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের উৎসবে বাধা দিয়েছিলেন, যা তখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তার এই কর্মকাণ্ড স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল বলে জানা গেছে।
এই ঘটনাটি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে একটি সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। উভয় দেশের কর্তৃপক্ষ এখন তার আইনগত অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



