কুমিল্লার মুরাদনগরে যুবককে গলা কেটে হত্যা, মাদক বিরোধের সন্দেহ
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় এক যুবককে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত এরশাদ মিয়া (৩২) বি-চাপিতলা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ মাঠ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
হত্যার পেছনে সম্ভাব্য কারণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এরশাদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুরি করা মালামালের ভাগাভাগি অথবা মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
নিহতের বাবা আব্দুল হক জানান, তার ছেলে আগে গাড়ি চালাতেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে বিচ্যুত হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বহু চেষ্টা করেও তাকে সুপথে ফেরানো সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দা মোমেন মিয়া বলেন, "সে খারাপ ছিল, এটা সত্য; কিন্তু এভাবে নির্মমভাবে হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম কামরুজ্জামান। বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মো. আব্দুল কাদের জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদক বা অন্য কোনো বিরোধের কারণে তার সঙ্গীরাই তাকে হত্যা করে থাকতে পারে। নিহত ওই যুবকের কাছে একটি ছুরি পাওয়া গেছে।
লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত জোরদার করেছে এবং সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
এই হত্যাকাণ্ড এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছে। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে, দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



