চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গৃহবধূ লিলি আকতারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ বন্দর এলাকার বোচা তালুকদারবাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত লাশটি গৃহবধূ লিলি আকতারের (২৯)। তিনি আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক এলাকার শাহবাড়ির কামাল উদ্দিন শাহর মেয়ে।
পরিবারের সদস্যদের বর্ণনা
২০১৭ সালে লিলি আকতারের সঙ্গে একই ইউনিয়নের বাসিন্দা মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের বিয়ে হয়। তাঁদের ঘরে আট বছরের এক ছেলে ও চার বছরের এক মেয়েসন্তান রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে নিজের শয়নকক্ষে বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় লিলি আকতারের লাশ ঝুলছিল। লাশ দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে বিষয়টি জানান। এরপর দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
হত্যা নাকি আত্মহত্যা নিয়ে বিতর্ক
শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, লিলি আকতার আত্মহত্যা করেছেন। তবে লিলির পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। নিহত গৃহবধূর স্বামী মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি ঘরের দ্বিতীয় তলায় ছিলাম। সকালে নিচে নেমে দেখি, লিলির শরীর ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে।’
লিলি আকতারের ভাই নিজাম উদ্দিন শাহ বলেন, ‘আমার বোনকে মেরে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটি আত্মহত্যা নয়। তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার চাই।’
পুলিশের পদক্ষেপ ও ময়নাতদন্ত
জানতে চাইলে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীনূর আলম বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে এটি হত্যা না আত্মহত্যা, সেটি নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং প্রাথমিকভাবে লাশ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। লিলি আকতারের পরিবার ও শ্বশুরবাড়ির মধ্যে বিতর্ক চলমান থাকলেও পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং দ্রুত বিচার চেয়েছেন।



