চট্টগ্রামে নেচেগেয়ে পিটিয়ে যুবক হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা
চট্টগ্রাম নগরের ব্যস্ততম দুই নম্বর গেট এলাকায় এক যুবককে নেচেগেয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দেড় বছর তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। নিহত শাহাদাত হোসেনকে ছিনতাইকারী সন্দেহে মারধর করা হয়, পরে তাঁর লাশ অটোরিকশায় করে আধা কিলোমিটার দূরে নালার পাশে ফেলে রাখা হয়।
অভিযোগপত্রে পাঁচ আসামি
পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়, যাতে ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী (৪৩), আনিসুর রহমান (২০), মেহেদী হাসান (২৭), মো. মাজেদ (২২) এবং এক ১৬ বছর বয়সী কিশোরকে আসামি করা হয়েছে। কিশোরটির বিরুদ্ধে আলাদা দোষীপত্র দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও ভিডিও প্রমাণ
২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট পাঁচলাইশের প্রবর্তক মোড় এলাকায় নালার পাশ থেকে শাহাদাতের লাশ উদ্ধার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি দেখে তাঁর বাবা মো. হারুন লাশটি শনাক্ত করেন। ২১ সেপ্টেম্বর একটি ২০ সেকেন্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যাতে দেখা যায় কয়েকজন তরুণ আঞ্চলিক গান গাইছে ও বাঁশি বাজাচ্ছে, আর মাঝখানে দুই হাত বাঁধা শাহাদাতকে মারধর করা হচ্ছে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার চার দিনের মধ্যে পুলিশ ফরহাদ, আনিসুর ও কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। কিশোর আদালতে জবানবন্দি দিয়ে স্বীকার করে যে ছিনতাইকারী সন্দেহে ১৫–২০ জন মিলে শাহাদাতকে মারধর করে এবং সে নিজেও এতে অংশ নেয়।
তদন্ত ও সাক্ষীর বক্তব্য
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক এস এম সফিউল আজম মুন্সী বলেন, ভিডিও ও জবানবন্দির ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে শাহাদাতকে নেচেগেয়ে মারধর করা হয়। অভিযোগপত্রে ২০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী খিচুড়ি বিক্রেতা মীর নাজমুল হোসেন উল্লেখ করেন যে ১৩ আগস্ট রাত ১১টার দিকে দুই নম্বর গেট এলাকায় শাহাদাতকে ট্রাফিক সিগন্যালের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়।
সোহান ও আসিফ উল মেজবাহ নামের আরও দুজনকে শনাক্ত করা গেলেও তাঁদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না পাওয়ায় আসামি করা যায়নি। ঠিকানা পাওয়া গেলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
নিহতের পটভূমি ও পরিবারের আবেদন
নিহত শাহাদাত হোসেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার পাঁচবাড়িয়া ইউনিয়নের নদনা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার বিআরটিসি এলাকায় বয়লার কলোনিতে থাকতেন এবং ফলমণ্ডির একটি দোকানে কাজ করতেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের একটি মামলা রয়েছে।
নিহতের বাবা মো. হারুন বলেন, 'আমার ছেলেকে যারা পিটিয়ে হত্যা করেছে, তাদের বিচার চাই। আমি দিনমজুর, আমার ছেলেও দিনমজুর ছিল। কী অপরাধে তাকে এমনভাবে মারা হলো? এমন ঘটনা যেন আর কোনো পরিবারের সঙ্গে না ঘটে।'
এই ঘটনায় পুলিশের তদন্ত চলমান, এবং আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়।



