কুষ্টিয়ায় পীরের আস্তানায় হামলা: ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিক্ষোভে নিহত শামীম রেজা
কুষ্টিয়ায় পীরের আস্তানায় হামলা, নিহত শামীম রেজা

কুষ্টিয়ায় পীরের আস্তানায় হামলা: ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিক্ষোভে নিহত শামীম রেজা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় এক পীরের আস্তানায় ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে ফিলিপনগর ইউনিয়নের ফিলিপনগর গ্রামে এ হামলা চালায় শতাধিক মানুষ, যেখানে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ফিলিপনগর গ্রামে শামীম রেজার আস্তানায় হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পুরনো ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যাতে শামীম রেজাকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দিতে দেখা যায়। এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

শনিবার সকালে আস্তানা থেকে আধা কিলোমিটার দূরে আবেদের ঘাট এলাকায় শতাধিক মানুষ জড়ো হন এবং দুপুরের পর আস্তানায় হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। জোহরের নামাজের পর বিভিন্ন বয়সী লোকজন লাঠিসোঁটা, রড ও হাঁসুয়া নিয়ে আস্তানার দিকে রওনা দেন। সেখানে পৌঁছে তারা প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর চালায় এবং আস্তানায় আগুন ধরিয়ে দেয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিহত ও আহতদের অবস্থা

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান জানান, হামলায় আহত তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে শামীম রেজার অবস্থা খুবই খারাপ ছিল, তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অতিরক্ত রক্তক্ষরণে চিকিৎসা শুরুর পাঁচ মিনিটের মধ্যে তিনি মারা যান। আহতদের মধ্যে একজন নারী ও একজন পুরুষ রয়েছেন, যারা শক্তামুক্ত অবস্থায় আছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্য

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি অনেক আগের হলেও এটি সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকার মানুষ হামলা চালায়। বিক্ষুব্ধ জনতার তুলনায় পুলিশ কম থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, আস্তানার পেছনের দিকে বাঁশবাগান থেকে সহস্রাধিক মানুষ এসে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন ছিল।

শামীম রেজার পটভূমি

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শামীম রেজা ফিলিপনগর উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ভেড়ামারা কলেজ থেকে বিকম পাস করেন। পরে তিনি রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এমকম সম্পন্ন করেন। শিক্ষাজীবন শেষে কেরানীগঞ্জ এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন, কিন্তু পরে চাকরি ছেড়ে এক পীরের মুরিদ হন। ২০১৮ সালে তিনি নিজ বাড়িতে এসে পৈতৃক জমিতে আস্তানা গড়ে তোলেন।

২০২১ সালের মে মাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা হয় এবং পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে তিনি আবার একই ধরনের কর্মকাণ্ড শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালের মার্চে এক অনুসারীর শিশুপুত্রের মরদেহ ঢাকঢোল বাজিয়ে দাফনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরও তিনি আলোচনায় আসেন।

বর্তমানে পুলিশ ভিডিওটি কীভাবে নতুন করে সামনে এসেছে, তা খতিয়ে দেখছে এবং ঘটনাটির তদন্ত চলমান রয়েছে।