দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ঠাকুরগাঁওয়ের যুবক নিহত, পরিবারে শোকের ছায়া
দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ঠাকুরগাঁওয়ের যুবক নিহত

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ঠাকুরগাঁওয়ের যুবক নিহত, পরিবারে শোকের ছায়া

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের অদূরে কতলেহং এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার এক তরুণ নিহত হয়েছেন। ২১ বছর বয়সী সোহান দারিদ্র্য বিমোচনের স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন, কিন্তু এখন তার নিথর দেহ দেশে ফিরতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় বাংলাদেশি সম্প্রদায়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

নিহত সোহান রাণীশংকৈল উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের চিকন মাটি গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি স্থানীয় একটি বাংলাদেশি মালিকানাধীন দোকানে কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নামাজের পর এলাকায় হঠাৎ লোডশেডিং হলে ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে আসে। এ সময় দোকানের মালিক মোমবাতি আনতে পেছনের দিকে গেলে, আগে থেকে প্রস্তুত থাকা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী দোকানে ঢুকে পড়ে।

সন্ত্রাসীরা সোহানকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি লুটিয়ে পড়েন এবং তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই দোকানের বাংলাদেশি মালিকের সঙ্গে পাশের একটি দোকানের সোমালি নাগরিকের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক বিরোধ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই শত্রুতার জেরেই সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের মর্মান্তিক পরিণতি

শুক্রবার সকালে সোহানের মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন দুলাল মিয়া। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে মা এখন বাকরুদ্ধ, এবং পুরো পরিবার শোকের অতলে ডুবে গেছে। রাণীশংকৈল থানার ওসি আমানুল্লাহ আল বারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ নিহতের বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে।

সরকারি প্রক্রিয়ায় সোহানের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে শোকসন্তপ্ত পরিবার। এই ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো অঞ্চলে যেখানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মাঝেমধ্যেই ঘটছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলমান থাকলেও, পরিবার ও সম্প্রদায়ের সদস্যরা ন্যায়বিচার ও সুরক্ষার প্রতিশ্রুতির অপেক্ষায় রয়েছেন।