টেকনাফের খালে বস্তাভর্তি কাটা লাশ উদ্ধার, পাহাড়ঘেরা এলাকায় আতঙ্ক
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কচ্ছপিয়া এলাকার হোছনী খাল থেকে বস্তাভর্তি লাশের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় পথচারীরা একটি কালভার্টের নিচে খালের মধ্যে পড়ে থাকা বস্তা দেখতে পান, যেটি কয়েকটি কুকুর টানাটানি করছিল। তাদের সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
নৃশংস হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টা
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তাটি খাল থেকে উঠিয়ে আনে। বস্তা খুলতেই টুকরা করে কাটা মানবদেহের আটটি খণ্ডাংশ বেরিয়ে আসে। পুলিশের ধারণা, নৃশংস কায়দায় হত্যার পর লাশ গুমের জন্য এভাবে বস্তাভর্তি করে খালে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুরুষের লাশ, পরিচয় অজানা
উদ্ধার করা মরদেহটি একজন পুরুষের বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ি তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ দুর্জয় বিশ্বাস জানান, উদ্ধার করা ছয় খণ্ড মরদেহ জোড়া লাগিয়ে লাশটি পুরুষের বলে শনাক্ত করা গেছে। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দেহটি ছয় টুকরা করা হয়েছে।
মানব পাচারের রুট হিসেবে পরিচিত এলাকা
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাহাড়ঘেরা বাহারছড়া এলাকাটি মানব পাচারের রুট হিসেবে পরিচিত। এর আগে নানা প্রলোভনে বিভিন্ন এলাকার লোকজনকে ধরে এনে পাহাড়ের আস্তানায় জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের একাধিক ঘটনা ঘটেছে।
তদন্ত ও ময়নাতদন্ত চলছে
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত খণ্ডিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়নি। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে মানুষটিকে ছয় টুকরা করা হয়েছে। খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, গত বুধবার রাতে কোথাও লোকটিকে হত্যার পর টুকরা টুকরা করে কেটে চালের সাদা বস্তায় ভরে খালের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল জোয়ারের পানিতে খণ্ডিত অংশগুলো সাগরে ভেসে যাওয়া। পুলিশ এখন তদন্ত জোরদার করেছে এবং নিহতের পরিচয় ও হত্যাকাণ্ডের কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।



