মানিকগঞ্জের সিংগাইরে দুই সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় সংবাদ সংগ্রহ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুই সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় তারা গুরুতর আহত হয়েছেন এবং হামলাকারীরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক সম্প্রদায় ও প্রশাসনের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
হামলার বিস্তারিত বিবরণ
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে সিংগাইর উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের সুদক্ষিরা গ্রামের দুই সাংবাদিক হাতনি এলাকায় একটি মানববন্ধনের খবর সংগ্রহ করেন। মানববন্ধনটি কবরস্থানে মাটি ভরাটে বাধা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আয়োজিত হয়েছিল। কাজ শেষে তারা প্রাইভেটকারে করে বাড়ি ফিরছিলেন।
কহিলাতলী এলাকায় পৌঁছালে শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের গাড়ির গতিরোধ করে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সুদক্ষিরা এলাকার শহিদুল ইসলাম, মীর কাশেম ও জাহানারা বেগমসহ আরও ৫-৬ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ঘিরে ফেলে। প্রথমে তারা গালিগালাজ করে এবং পরে সরাসরি হামলা চালায়।
লোহার রড দিয়ে সানোয়ার হোসেনকে আঘাত করা হয়, যার ফলে তার ডান হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। সানোয়ার হোসেনকে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয় এবং তার পকেটে থাকা ১২ হাজার ৬০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আহত সাংবাদিকদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়, কিন্তু যাওয়ার আগে তারা দুই সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
আহত সাংবাদিকদের পরিচয়
আহত সাংবাদিকরা হলেন:
- আবুল কালাম আজাদ: দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া ও রাজধানী টিভির রিপোর্টার।
- সানোয়ার হোসেন: মুভি বাংলা টিভি ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার সিংগাইর উপজেলা প্রতিনিধি।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেন। এই ঘটনায় আবুল কালাম আজাদ সিংগাইর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি এবং সানোয়ার হোসেন লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া
আহত সাংবাদিক সানোয়ার হোসেন বলেন, "আমরা দায়িত্ব পালন করে ফেরার পথে পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয়। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।"
অপর সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ বলেন, "আমরা কোনো অপরাধ করিনি। শুধু চাঁদাবাজির প্রতিবাদে মানববন্ধনের সংবাদ সংগ্রহ করেছি। অথচ আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমরা নিরাপত্তা চাই এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তি দাবি করছি।"
স্থানীয় সাংবাদিক সম্প্রদায়ের প্রতিবাদ
এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহানুর ইসলাম, সিংগাইর উপজেলা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মোবারক হোসেন, সদস্য সচিব সুজন মোল্লাসহ উপজেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা। তারা এই হামলাকে সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রের উপর হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।
পুলিশের তদন্ত
সিংগাইর থানার পুলিশ পরিদর্শন (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, "বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
এই হামলা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় সম্প্রদায় ও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানানো হচ্ছে।



