ইরানের হুমকি নিয়ে এফবিআইয়ের সতর্কতা উপেক্ষা করেছে ওয়াশিংটন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকি নিয়ে আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছিল। তবে ওয়াশিংটন প্রশাসন এসব সতর্কতাকে পাত্তা দেয়নি বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। গত মাসে এফবিআই দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ইরানের ‘অব্যাহত হুমকি’ সম্পর্কে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা একটি আইনশৃঙ্খলা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০ মার্চ তারিখের ওই প্রতিবেদনে এফবিআই এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, গুরুত্বপূর্ণ ভবন, ইহুদি ও ইসরাইলি প্রতিষ্ঠানের ওপর ইরান সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি হামলার ঝুঁকি বিদ্যমান রয়েছে।
তবে একই প্রতিবেদনে এফবিআই এবং ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টার (এনসিটিসি) স্বীকার করেছে যে, তারা এখনো সাধারণ জনগণের ওপর বড় ধরনের কোনো হামলার সুনির্দিষ্ট বা নিশ্চিত তথ্য পায়নি। এই প্রতিবেদনটি মূলত একটি ‘পাবলিক সেফটি অ্যাওয়ারনেস রিপোর্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা জনসাধারণের সুরক্ষা বিষয়ে সতর্কতা প্রদানের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল।
ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য ও সতর্কতা পাওয়া সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন মাটিতে ইরানি হামলার সম্ভাবনাকে জনসমক্ষে তেমন গুরুত্ব দেননি। গত ১১ মার্চ হোয়াইট হাউজের বাইরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইরানি হামলা নিয়ে তিনি মোটেও চিন্তিত নন। তার এই বক্তব্য প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সতর্কতা ও বাহ্যিক বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেছে।
এর আগে রয়টার্সসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল যে, হোয়াইট হাউজ একই ধরনের একটি গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশে বাধা দিয়েছিল। তখন হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, প্রকাশের আগে সব তথ্যের যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন এক বিবৃতিতে দৃঢ়ভাবে বলেছেন:
‘ট্রাম্প প্রশাসন দেশ ও জনগণকে রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। ব্যক্তিগত স্তরের কোনো আইনশৃঙ্খলা স্মারকলিপি নিয়ে রিপোর্ট করে সংবাদমাধ্যমের উচিত হবে না দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে জনগণের মধ্যে ভীতি ছড়ানো।’
জনমত ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
গত মাসে রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথভাবে পরিচালিত এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন যে বর্তমান সংঘাত বা যুদ্ধ দ্রুত শেষ করা উচিত। জনমত যুদ্ধের বিপক্ষে থাকায় যে কোনো ধরনের হুমকি বা সুরক্ষা ঝুঁকির খবর এখন বেশ প্রাসঙ্গিক ও আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সতর্কতা এবং প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও বিশ্লেষণ চলছে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ইসরাইলের সম্পৃক্ততা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গোয়েন্দা তথ্য উপেক্ষা করা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, অন্যদিকে সরকার দাবি করছে যে তারা সকল সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।



