লিবিয়ার বন্দিশালায় নির্যাতনে মাদারীপুরের যুবকের মৃত্যু, দালালদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি
লিবিয়ায় নির্যাতনে মাদারীপুরের যুবকের মৃত্যু, দালালদের শাস্তি চাই

লিবিয়ার বন্দিশালায় নির্যাতনে মাদারীপুরের যুবকের মৃত্যু

ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে ও স্বপ্ন পূরণের আশায় ইতালির উদ্দেশ্যে বাড়ি ছেড়েছিলেন জহিরুল আকন (২৫)। কিন্তু মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে তার যাত্রা শেষ হয় লিবিয়ার একটি বন্দিশালায়, যেখানে নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ বুধবার (৮ এপ্রিল) এই মর্মান্তিক ঘটনা আলোচনায় আসে, যদিও তার মৃত্যুর খবর পরিবার পেয়েছিল সোমবার রাতে। এরপর থেকে জহিরুলের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দালালের প্রলোভনে ইতালির পথে

জহিরুল আকন মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার দক্ষিণ ধুয়াসার গ্রামের সামচু আকনের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি একই উপজেলার পাশের ধুয়াসার গ্রামের এক মানবপাচারকারী সক্রিয় সদস্যের প্রলোভনে পড়ে প্রায় পাঁচ মাস আগে সরাসরি ইতালির উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন। কিন্তু দালালচক্র তাকে সৌদি আরব হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যায় এবং সেখানে একটি বন্দিশালায় আটকে রাখে।

বন্দিশালায় জহিরুলের ওপর চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। পরিবারের কাছ থেকে কয়েক ধাপে মোট ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। কিন্তু মুক্তিপণ দেওয়ার পরও মাফিয়ারা আরও নির্যাতন চালালে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। মজার বিষয় হলো, জহিরুলের মৃত্যু হয়েছিল প্রায় ১৫ দিন আগে, কিন্তু দালালচক্র বিষয়টি গোপন রেখেছিল। শেষমেশ লিবিয়ায় বসবাসরত একই গ্রামের কয়েক যুবকের মাধ্যমে পরিবার এই দুঃসংবাদ পায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শাস্তির দাবিতে উত্তাল এলাকা

এই ঘটনায় জহিরুলের স্ত্রী সাথী আক্তার ও এলাকাবাসী দালালদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস্) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘লিবিয়ার বন্দিশালায় এক তরুণের মৃত্যুর খবর আমরা নিহত ব্যক্তির স্বজনদের মাধ্যমে জানতে পেয়েছি। নিহত ব্যক্তির পরিবার পুলিশের কাছে এ বিষয়ে আইনি যেকোনো সহযোগিতা চাইলে তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দালালদের বিষয়ে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার এই প্রতিযোগিতা বন্ধে সবাইকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানান। পুলিশের এই বার্তা সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

একটি পরিবারের করুণ গল্প

জহিরুল আকনের মৃত্যু শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, এটি বাংলাদেশের অনেক তরুণের স্বপ্নভঙ্গের প্রতিচ্ছবি। মানবপাচার ও দালালচক্রের কবলে পড়ে অনেকেই বিদেশে যাওয়ার পথে জীবন হারাচ্ছেন। এই ঘটনা আমাদের সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা বহন করে।

  • জহিরুল আকন মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন।
  • তিনি মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
  • লিবিয়ার বন্দিশালায় নির্যাতনের শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়।
  • পরিবার মুক্তিপণ দিয়েও তাকে বাঁচাতে পারেনি।
  • দালালদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী সোচ্চার।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উচিত মানবপাচার রোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। জহিরুলের মতো তরুণদের স্বপ্ন যেন আর ধ্বংস না হয়, সেদিকে সবার নজর দেওয়া প্রয়োজন।