চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় একটি বাড়িতে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৈখাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোরীর নাম নুরতাজ আক্তার, যার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। সে একই এলাকার আজাদুল ইসলামের মেয়ে এবং দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সে ছিল সবার বড়।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, আজ সকালে নুরতাজের মা শাহনাজ বেগম ওই বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি কাজে যান। ওই কাজ সেরে তিনি ঘরে ফিরে এসে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। তিনি দেখেন, তার মেয়ে নুরতাজের মরদেহ সিলিং ফ্যানে ঝুলছে। এই দৃশ্য দেখে তিনি হতভম্ব হয়ে পড়েন এবং দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
মায়ের বক্তব্য
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে নুরতাজের মা শাহনাজ বেগম বলেন, 'আমি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় নুরতাজের হাতে কিছু টাকা দিয়েছিলাম। ছোট ভাই স্কুল থেকে এলে দোকান থেকে কিছু কিনে দিতে বলেছিলাম। কিন্তু যখন আমি কাজ শেষ করে ঘরে ফিরলাম, তখন দেখি মেয়ের লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে। কীভাবে কী হলো, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।' তিনি আরও বলেন, 'নুরতাজ খুব শান্ত ও মেধাবী মেয়ে ছিল। এমন ঘটনা ঘটবে, তা কখনো ভাবিনি।'
পুলিশের পদক্ষেপ
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী ঘটনা সম্পর্কে বলেন, 'আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেছি এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' তিনি আরও বলেন, 'প্রাথমিকভাবে এটি অপমৃত্যুর মতো দেখাচ্ছে, তবে তদন্তের মাধ্যমে সঠিক কারণ জানা যাবে।'
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, নুরতাজ একটি ভালো পরিবারের মেয়ে ছিল এবং তার এমন মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। এলাকায় নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এই ঘটনা চট্টগ্রাম বিভাগের আনোয়ারা উপজেলায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশ তদন্ত জোরদার করেছে। অপমৃত্যুর মতো ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তার গুরুত্বও উঠে এসেছে।



