তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইসরায়েলি কনস্যুলেটে সশস্ত্র হামলা
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত ইসরায়েলি কনস্যুলেটের সামনে তিন বন্দুকধারীকে পুলিশ 'নিষ্ক্রিয়' করেছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এক হামলাকারী নিহত হয়েছেন এবং বাকি দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটি ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংঘটিত হয়, যেখানে সাদাপোশাকের পুলিশ কর্মকর্তারা অস্ত্র নিয়ে কনস্যুলেটের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
গোলাগুলি ও হামলাকারীদের চেষ্টা
সিএনএন তুর্ক-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্দুকধারীরা কনস্যুলেট ভবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ তাঁদের থামার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তাঁরা নির্দেশ অমান্য করে গুলি চালালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। হামলাকারীরা ভবনের ভেতরে ঢুকে ইসরায়েলি কূটনৈতিক দপ্তরের তলায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন বলে জানা গেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তফা সিফতচি বলেন, 'ইস্তাম্বুলের ইয়াপি ক্রেডি প্লাজা ব্লকের সামনে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সশস্ত্র সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া তিন ব্যক্তিকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এই সংঘর্ষে আমাদের দুজন বীর পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাঁরা ইজমিত শহর থেকে ভাড়া করা একটি গাড়িতে করে ইস্তাম্বুলে এসেছিলেন।
হামলাকারীদের পরিচয় ও জঙ্গি যোগসূত্র
হামলাকারীদের সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাঁরা ধর্মকে ব্যবহার করে এমন একটি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত এবং দুই হামলাকারী আপন ভাই। তাঁদের মধ্যে একজনের মাদক গ্রহণের ইতিহাস রয়েছে। যদিও সরাসরি কোনো সংগঠনের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তুর্কি কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, আটক এক সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) যোগসূত্র রয়েছে।
ইজমিত, ইয়ালোভাসহ আশপাশের এলাকায় আইএসের অনেক সমর্থক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। গত ডিসেম্বরে ইয়ালোভা শহরের একটি বাড়িতে অভিযানের সময় আইএসের সন্দেহভাজন সদস্যদের সঙ্গে ব্যাপক গোলাগুলি হয়, যাতে তিন পুলিশ কর্মকর্তা ও ছয় সন্দেহভাজন নিহত হন। গত বছর তুরস্কজুড়ে আইএসের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বেশ কিছু অভিযান চালিয়ে অনেককে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ।
কনস্যুলেটের অবস্থা ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গ
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর নিরাপত্তার কারণে তুরস্ক থেকে নিজেদের কূটনীতিকদের ফিরিয়ে নেয় ইসরায়েল। এর পর থেকেই ইস্তাম্বুলের এই কনস্যুলেট ভবনটি খালি পড়ে রয়েছে। এই ঘটনাটি আবারও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও জঙ্গি হুমকির বিষয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এই হামলার পর তুর্কি কর্তৃপক্ষ জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসা কুড়িয়েছে।



