পুরান ঢাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা: সোর্সের সূত্রে ধরা পড়লো খুনিরা
পুরান ঢাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা: সোর্সের সূত্রে ধরা খুনি

পুরান ঢাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা: সোর্সের সূত্রে ধরা পড়লো খুনিরা

পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের সামনে গত বছরের ১০ নভেম্বর এক নৃশংস ঘটনা ঘটে। সেখানে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈফ মামুনকে। ঘটনাটি সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়লেও খুনিদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ তাঁদের মুখে মাস্ক ছিল এবং তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।

তদন্তে গতি আনে এক সোর্সের তথ্য

গোয়েন্দারা যখন তদন্তে অগ্রগতি করতে পারছিলেন না, তখন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা ভিডিওটি তাঁর এক সোর্সকে দেখান। সোর্সটি কয়েক সেকেন্ড দেখেই বলে ওঠে, "স্যার, একজনের গুলির ধরন কুত্তা ফারুকের মতো।" এই একটি বাক্যই তদন্তে নতুন গতি আনে।

সেই সূত্র ধরে প্রযুক্তিগত তদন্ত শুরু হয় এবং গ্রেপ্তার করা হয় ফারুক হোসেন ফয়সালসহ পাঁচজনকে। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে হত্যার রহস্য। জানা যায়, ঢাকার অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় মামুনকে। এই হত্যার নির্দেশ দেন তাঁরই একসময়ের বন্ধু, আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন, যিনি ক্যাপ্টেন ইমন নামে পরিচিত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যার পেছনের দ্বন্দ্ব ও পূর্বের হামলা

২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো মামুনকে হত্যার চেষ্টা করা হয় তেজগাঁওয়ে, কিন্তু তিনি সেবার বেঁচে যান। দুই বছর পর নতুন পরিকল্পনা করে পুরান ঢাকার আদালতপাড়ায় তাঁকে হত্যা করা হয়। মামুন আদালতে হাজিরা দিয়ে বের হওয়ার পরই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বলেন, "সোর্সের দেওয়া প্রাথমিক ধারণা থেকেই তদন্তের ভিত্তি তৈরি হয়। পরে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া যায় সংশ্লিষ্টদের পরিচয়। খুনিরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু তার আগেই গ্রেপ্তার করা হয়।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার ও পালানোর চেষ্টা

গ্রেপ্তার অভিযানের নেতৃত্ব দেন ডিবির লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নূরে আলম। তিনি জানান, আসামিরা সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে যেতে ব্যর্থ হয়ে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে পালানোর পরিকল্পনা করছিল। নরসিংদীতে একটি বাসে ফারুককে দেখে তাঁরা নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে, সানজিদুল ইসলাম ইমনের ঘনিষ্ঠ রনি মামুন হত্যার ছক তৈরি করেছিলেন। ফারুক ও রবিন সেই ছক অনুযায়ী গুলি চালান। তবে রনি এখনো অধরা, এবং ইমনের অবস্থানও অজানা।

বন্ধুত্ব থেকে শত্রুতার গল্প

নব্বইয়ের দশকে ইমন ও মামুন একসাথে অপরাধজগতে প্রভাব বিস্তার করতেন, কিন্তু ২০২৩ সালে মামুনের জামিনে মুক্তির পর নতুন দল গঠনের চেষ্টায় তাঁদের বন্ধুত্বে ফাটল ধরে। ইমন তখন মামুনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন, যা শেষ পর্যন্ত সফল হয়।

এই হত্যাকাণ্ড ঢাকার অপরাধজগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং গোয়েন্দারা এখনো ইমন ও রনিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।