চট্টগ্রামে যুবদল কর্মীর ওপর নৃশংস হামলা: হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন
চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার বলুয়ার দিঘির পাড় এলাকায় এক যুবদল কর্মীর ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। মিনহাজ উদ্দিন নামের ওই কর্মীর একটি হাতের কবজি ধারালো অস্ত্র দিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। তিনি আদালতে মামলায় হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে এ হামলার শিকার হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় স্থানান্তর
গুরুতর আহত মিনহাজ উদ্দিনকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তার জীবন বাঁচাতে জরুরি চিকিৎসা প্রদান করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
হামলার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষ
মিনহাজ উদ্দিনের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বেলা দেড়টার দিকে দক্ষিণ বাকলিয়ার বউবাজার আহমদুর রহমান সড়কের কয়েকটি বাড়িতে পাল্টা হামলা চালানো হয়। এতে আরমান প্রকাশ এঞ্জেল নামের এক যুবক মারধরের শিকার হয়ে আহত হন। তার বাড়িতেও ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মুহাম্মদ কবির ভূঁইয়া ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, 'এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মিনহাজ নামের একজনকে কুপিয়ে হাতের কবজি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। এই ঘটনার জেরে তার অনুসারীরা কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালান। দুটি ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।'
স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট
আহত যুবদল কর্মী মিনহাজ উদ্দিন মাস্টারপুলের বাসিন্দা এবং ওই এলাকার জাকির গ্রুপের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে আহত আরমান বউ বাজার এলাকায় থাকেন এবং তিনি সবুজ নামের একজনের অনুসারী বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সোমবার দুপুরে বলুয়ার দিঘির পাড় এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। মিনহাজ উদ্দিন সকাল ১০টার দিকে আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে অতর্কিত হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে তার ডান হাতের কবজি সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
পুলিশের তদন্ত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি বড় দল মোতায়েন করা হয়েছে। তারা এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এলাকাবাসীরা নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে আরও জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কামনা করেছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রকাশ্যে বের হতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। পুলিশ প্রশাসন এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে সকল পক্ষকে সংযমের আহ্বান জানিয়েছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে।



