সোলাইমানির কন্যারা গ্রেফতারকৃত ইরানি নারীদের সম্পর্ক নাকচ করলেন
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানির দুই কন্যা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার হওয়া দুই ইরানি নারীর সঙ্গে তাদের পরিবারের কোনও সম্পর্ক নেই। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের দাবি তারা সরাসরি নাকচ করেছেন।
মার্কিন দাবি ও ইরানি প্রতিক্রিয়া
এর আগে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট গ্রেফতারকৃত ওই দুই নারীকে সোলাইমানির ভাতিজি এবং নাতনি হিসেবে শনাক্ত করেছিল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স নিউজ’-এ শেয়ার করা পোস্টে সোলাইমানির কন্যা জয়নাব সোলাইমানি বলেন, “মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। যুক্তরাষ্ট্রে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, আমাদের পরিবারের সঙ্গে তাদের কোনও যোগসূত্র নেই।”
সোলাইমানির আরেক কন্যা নারজেস সোলাইমানিকে উদ্ধৃত করে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, “আজ পর্যন্ত শহীদ সোলাইমানির পরিবারের কোনও সদস্য কিংবা কোনও নিকটাত্মীয় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেননি।”
গ্রেফতার ও অভিযোগের বিস্তারিত
এর আগে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছিল, হামিদা সোলাইমানি আসফার নামে এক নারী এবং তার মেয়েকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের গ্রিন কার্ডও বাতিল করা হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের দাবি অনুযায়ী, হামিদা সোলাইমানি ছিলেন জেনারেল কাসেম সোলাইমানির ভাতিজি।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয় যে, হামিদা সোলাইমানি আসফার ইরান সরকারের কট্টর সমর্থক এবং তিনি ‘মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সৈন্য ও সামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনাকে উদযাপন’ করেছিলেন। তবে সোলাইমানির কন্যারা এই পারিবারিক পরিচয়কে সরাসরি নাকচ করে দিলেন।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ঘটনার গুরুত্ব
এই ঘটনা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কাসেম সোলাইমানি ২০২০ সালে মার্কিন হামলায় নিহত হওয়ার পর থেকে তার পরিবার আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
- মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, গ্রেফতারকৃত নারীরা সোলাইমানির পরিবারের সদস্য।
- ইরানি পক্ষের জবাব, এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যমূলক।
- এই ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই বিষয়ে নীরবতা বজায় রেখেছে, তবে সোলাইমানির কন্যাদের বক্তব্য সরাসরি প্রচার করা হয়েছে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



