ডাব পাড়া নিয়ে দ্বন্দ্বে তরুণ অটোরিকশাচালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় প্রতিবেশীর গাছের ডাব পাড়া দেওয়া নিয়ে তীব্র দ্বন্দ্বের জেরে এক তরুণকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের গালিমপুর গ্রামের একটি ইটভাটায় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত মামুন মিয়া (২০) স্থানীয় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন, যিনি নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের গালিমপুর গ্রামের প্রয়াত আবদুল মোমেন মিয়ার সন্তান।
ঘটনার পটভূমি ও দ্বন্দ্বের সূত্রপাত
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই দিন আগে প্রতিবেশী রাবেয়া বেগম মামুন মিয়াকে তাঁর বাড়িতে ডেকে নিয়ে গাছের ডাব পাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন। মামুন তখন কয়েকটি গাছ থেকে বেশ কিছু ডাব পাড়েন, যার মধ্যে অভিযুক্ত আজিজুল মিয়ার (৩৫) গাছের ডাবও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ডাবগুলো একত্র করে রাবেয়া ও আজিজুলের পরিবারের মধ্যে ভাগাভাগি করা হলেও, আজিজুল এ নিয়ে অসন্তুষ্ট হন এবং কথাকাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। উত্তেজিত অবস্থায় আজিজুল মামুনের বাড়িতে গিয়ে তাঁর ঘরের টিন ও অটোরিকশা ভাঙচুর করেন। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিরা মীমাংসার চেষ্টা করলেও আজিজুল তা মানতে অস্বীকার করেন।
হত্যাকাণ্ডের নির্মম বিবরণ
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে আজিজুল মামুনকে কল করে মীমাংসার কথা বলে পাশের ইটভাটায় ডেকে নেন। মামুন সেখানে পৌঁছানোর পরপরই আজিজুল তাঁর বুকে ও পিঠে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয় কয়েকজন মামুনের চিৎকার শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁরা মামুনকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসা ও পুলিশি তদন্ত
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, নিহত তরুণকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর বুক, পিঠসহ অন্তত তিন জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহেদ আল মামুন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। অভিযুক্ত আজিজুল মিয়া ঘটনার পর থেকে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন, এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরাও বাড়িঘর তালাবদ্ধ করে চলে গেছেন।



