ঈশ্বরদীতে সন্ত্রাসী হামলায় ছাত্রদল নেতা নিহত, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের অভিযোগ
ঈশ্বরদীতে সন্ত্রাসী হামলায় ইমরান হোসেন সোহাগ (২২) নামে এক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পৌরসভার সাঁড়া গোপালপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সোহাগ উপজেলা ছাত্রদলের নেতা এবং ‘জিয়া সাইবার ফোর্স’-এর উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি বাঘইল মুন্নবীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও এনামুল হকের ছেলে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে সোহাগ তার সহকর্মীদের সঙ্গে সাঁড়া গোপালপুর স্কুলের পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ একদল সন্ত্রাসী সেখানে হামলা চালিয়ে গুলি ছোড়ে। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা সোহাগকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের অভিযোগ
নিহতের সহকর্মীদের দাবি, উপজেলা বিএনপির দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তারা জানান, সোহাগ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব মেহেদী হাসানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে।
পুলিশের বক্তব্য
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে গুলিবর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে সোহাগের মৃত্যু গুলিতে নাকি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে। নিহতের পরিবার ও সহকর্মীরা ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।



