ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিহতের ঘটনায় সুনামগঞ্জে ৯ দালালের বিরুদ্ধে দুটি মামলা
সুনামগঞ্জে নৌকাডুবি মামলা: ৯ দালালের বিরুদ্ধে দুটি মামলা

ভূমধ্যসারগরে নৌকাডুবির ঘটনায় সুনামগঞ্জে ৯ দালালের বিরুদ্ধে দুটি মামলা

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিহতদের স্বজনরা মানবপাচারকারী দালালদের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জের দিরাই ও জগন্নাথপুর থানায় পৃথক দুটি মামলা করেছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামিদের বেশিরভাগই ইতালি ও লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে।

মামলার বিস্তারিত বিবরণ

জগন্নাথপুর থানায় উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের পাইলগাঁও গ্রামের নিহত আমিনুর রহমানের বাবা হাবিবুর রহমান ও দিরাইয়ে বাসুরি গ্রামের সোহানুর রহমান নিহতের ঘটনায় তার বাবা ছালিকুর রহমান পৃথক মামলা দুটি করেন। জগন্নাথপুর থানায় করা মামলার আসামিরা হলেন:

  • ছাতক থানার গয়াসপুর গ্রামের মদরিছ মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া
  • জগন্নাথপুর উপজেলার ইছগাঁও গ্রামের মৃত মন্তাজ মিয়ার ছেলে আজিজুল ইসলাম
  • অজ্ঞাত বিলাল মিয়া
  • জসিম মিয়া
  • এনাম মিয়া

এর মধ্যে বিলাল মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তবে দিরাইয়ের মামলার আসামিদের নাম এখনো জানা যায়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিহতদের স্বজনদের বক্তব্য

নিহতদের স্বজনরা জানান, মানবপাচারকারী একাধিক চক্র ১২-১৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ইতালিতে নিয়ে যাবে বলে তাদেরকে আফ্রিকার লিবিয়ায় নিয়ে যায়। লিবিয়ায় দালালরা ‘গেম ঘরে’ দীর্ঘদিন আটকে রেখে ২১ মার্চ রাবারের নৌকায় করে ৪৮ জন অভিবাসন প্রত্যাশী নিয়ে সাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি নেয়। দীর্ঘদিন সাগরে অনাহার ও রোগাক্রান্ত হয়ে ২২ জনের মৃত্যু হয়।

এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার রয়েছেন ১২ জন। তাদের মধ্যে দিরাই উপজেলার ৬, জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ ও দোয়ারাবাজার উপজেলার একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। জগন্নাথপুর থানায় করা মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ পাইলগাঁও গ্রামের আমিনুর রহমান মেঘনা গ্রুপের এসআর হিসেবে জগন্নাথপুরে কাজ করতেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ

জগন্নাথপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, সাগরপথে জগন্নাথপুরের পাঁচ যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

দিরাইয়ের মামলার বাদী ছালিকুর রহমান বলেন, একমাত্র ছেলেকে বৈধ পথে বিদেশ সার্বিয়া পাঠাতে পাসপোর্টসহ এক লাখ টাকা তিনি একটি ট্রাভেলসে জমা রাখেন। কিন্তু জগদল গ্রামের মাওলানা ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে ইতালি প্রবাসী দালাল সালেহ আহমদের প্রলোভনে পড়ে তার ছেলে ইউরোপ যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে।

তিনি আরো বলেন, ২২ মার্চ তার ছেলের সাথে শেষ কথা হয়, সে বলছিল আব্বা আমার কষ্ট হলেও তুমি কোন চিন্তা করো না। এর কিছুদিন না যেতেই তার ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে দালাল সালেহ আহমদকে ফোন দিলে ফোন ধরেনি।