শরীয়তপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ: ছাত্রলীগের ২৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী মামলা
শরীয়তপুরে স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ, ছাত্রলীগের ২৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

শরীয়তপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ: ছাত্রলীগের ২৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী মামলা

শরীয়তপুর জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ২৩ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে, যা স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার

শনিবার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইদুল ইসলাম মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ড করেছেন। মামলার আসামিদের মধ্যে ছাত্রলীগের জেলা কমিটির আহ্বায়ক মহসিন মাতবরসহ সংগঠনটির ২৩ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে মামলার এক আসামি রিয়াজুল ইসলাম (২১)কে গ্রেপ্তার করেছে এবং সন্ধ্যায় তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অনুসন্ধান ও প্রমাণ সংগ্রহ

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম জানিয়েছেন, জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের আশপাশে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ অগ্নিসংযোগকারীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ঘটনার মূলে রয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা মহসিন মাতবর। তার নেতৃত্বে তার অনুসারী ২৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার পটভূমি ও প্রতিক্রিয়া

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে শরীয়তপুর জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক নির্মিত এই স্মৃতিস্তম্ভে রাতের আঁধারে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে স্মৃতিস্তম্ভের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় যুবশক্তির নেতারা এই ঘটনাকে নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।

ঘটনার পর, শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়, যাতে দেখা যায় ছাত্রলীগের দুই-তিনজন কর্মী স্মৃতিস্তম্ভে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন। এই ১৭ সেকেন্ডের ভিডিওটি শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহসিন মাতবর নিজেই পোস্ট করেছিলেন বলে জানা গেছে। ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠছে এবং স্মৃতিস্তম্ভের চারপাশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তদন্ত ও যোগাযোগের চেষ্টা

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং এনসিপির জাতীয় যুবশক্তির নেতাকর্মীদের নজরে আসে। মহসিন মাতবরের সাথে যোগাযোগের জন্য তার মুঠোফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে কল করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি, যা তদন্তকারীদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তারা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ছাড়াও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে জোরালো অভিযান চালাচ্ছে। এই ঘটনা শরীয়তপুরের স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং অনেকেই দ্রুত ন্যায়বিচার কামনা করছেন।