শরীয়তপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন: ছাত্রলীগ নেতার ভিডিও পোস্টে মামলা ও গ্রেপ্তার
শরীয়তপুরে স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, ছাত্রলীগ নেতার ভিডিও পোস্টে মামলা

শরীয়তপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন: ছাত্রলীগ নেতার ভিডিও পোস্টে মামলা ও গ্রেপ্তার

শরীয়তপুর জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটে, যেখানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী-সমর্থকরা স্মৃতিস্তম্ভটিতে আগুন লাগান। শুক্রবার রাতে শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহসিন মাতবর ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যাতে দুই-তিনজন লোক স্মৃতিস্তম্ভে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন বলে দেখা যায়। এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠনের নজরে আসে।

মামলা ও গ্রেপ্তারের বিস্তারিত

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, শনিবার সন্ধ্যায় শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইদুল ইসলাম এই মামলাটি করেন। মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের জেলা কমিটির আহ্বায়ক মহসিন মাতবরসহ মোট ২৩ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে মামলার এক আসামি রিয়াজুল ইসলাম (২১)কে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তদন্ত ও অভিযান চালাচ্ছে।

পুলিশের তদন্ত ও সিসি ক্যামেরা ফুটেজ

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম জানান, জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের আশপাশে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ ঘটনাকারীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনার মূলে রয়েছেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা মহসিন মাতবর। পুলিশের মতে, ভিডিওতে দেখা গেছে যে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠছে, যা স্মৃতিস্তম্ভের কিছু অংশের ক্ষতি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন শরীয়তপুর জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেছিল, এবং রাতের আঁধারে এই হামলায় তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ছাত্রলীগ নেতার ভিডিও পোস্ট ও প্রতিক্রিয়া

মহসিন মাতবর কর্তৃক পোস্ট করা ১৭ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে স্পষ্টভাবে দেখা যায় কিভাবে লোকজন স্মৃতিস্তম্ভে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন। তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন যে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাই এই কাজ করেছেন। তবে, ঘটনার পর থেকে মহসিন মাতবর আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় যুবশক্তির নেতারা এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সামাজিক প্রভাব

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিতে নির্মিত এই স্মৃতিস্তম্ভটি শরীয়তপুরে ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। আগুন দেওয়ার এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা বাড়িয়েছে। পুলিশের মতে, এই ধরনের কাজ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য হুমকিস্বরূপ এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন, পাশাপাশি দোষীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।