বাগেরহাটে কলেজ শিক্ষার্থী আমির হামজাকে সন্ত্রাসীদের গুলিতে হত্যা
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। নিহত আমির হামজা (২৩) খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের সময় তার বাবা রুহুল আমিন মুন্সিকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে জিম্মি করে রাখা হয়।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে চিতলমারী উপজেলার শিবপুর গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার সময় হামজা বাড়ির উঠানে তার বাবা ও চাচার সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় ১০-১২ জন যুবক মোটরসাইকেলে করে হেলমেট পরিহিত অবস্থায় বাড়িতে প্রবেশ করে নিজেদের ‘পুলিশ’ পরিচয় দেয়।
পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে হামজা দৌড়ে বাড়ির ছাদে ওঠেন। সন্ত্রাসীরা তাকে ধাওয়া করে। নিহতের বাবা রুহুল আমিন মুন্সি জানান, তিনজন সন্ত্রাসী তাকে ঘিরে ধরে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে রাখে। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে হামজা ছাদ থেকে রান্নাঘরের টিনের ওপর লাফ দেন। এরপর ৫-৬ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়।
হত্যাকাণ্ডের পরের দৃশ্য
সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার পর দেখা যায়, বাড়ির পাশের খালের ধারে আমির হামজা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিথর পড়ে আছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সন্ত্রাসীরা হামজাকে ধরে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে একাধিক গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
নিহত আমির হামজা শিবপুর গ্রামের রুহুল আমিন মুন্সির ছেলে। তিনি খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ করতেন। মাত্র দুই মাস আগে বিয়ে করা হামজা ঈদ উপলক্ষে স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন।
পূর্ব শত্রুতার অভিযোগ
স্বজনদের দাবি, গত ৫ আগস্ট খুলনায় তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনার প্রতিবাদ করায় একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের বিরোধ তৈরি হয়। পরিবারের ধারণা, সেই বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। নিহতের মা বাদী হয়ে চিতলমারী থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামীম হোসেন জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই ও ডিবি পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। প্রাথমিক তদন্তে পূর্ব শত্রুতার বিষয়টি উঠে এসেছে এবং জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, চলতি মাসেই বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় পৃথক গুলিবর্ষণের ঘটনায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন। একের পর এক হত্যাকাণ্ডে জেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে, যদিও এসব ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।



