লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে পথচারী আহত, আটক আটজন
লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীদের দুটি দলের মধ্যে সংঘটিত গোলাগুলিতে এক পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ আটজনকে আটক করেছে এবং আহত ব্যক্তিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজারের আফজাল রোডের মুখে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এলাকায় প্রভাব বিস্তারের জেরে সন্ত্রাসীদের দুটি পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, একটি পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন ইউনিয়নের দেওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাকিব পাটওয়ারি, অপর পক্ষটির নেতৃত্ব দেন শেখপুর গ্রামের মিতুল।
দুই পক্ষের গোলাগুলির সময় পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন পথচারী আবদুর রহিম (৫৫), যিনি গুলিবিদ্ধ হন। আবদুর রহিম ইউনিয়নের শেখপুর গ্রামের শামছুল হকের ছেলে এবং পেশায় গাছ ব্যবসায়ী। এছাড়া, মো. মানিক নামের এক ব্যক্তিকে এলোপাতাড়ি চেইন দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। আহত মো. মানিক সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের পূর্ব জাফরপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে।
চিকিৎসা ও পুলিশি ব্যবস্থা
লক্ষ্মীপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সালাম সৌরভ জানান, ‘আবদুর রহিমের বাম পায়ে গুলির আঘাত রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’ আহত ব্যক্তির অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
চন্দ্রগঞ্জ থানার পুলিশের উপপরিদর্শক মো. কাউছার বলেন, ‘গোলাগুলির ঘটনার খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে আটজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় মামলা হবে।’ পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জনজীবনে ভীতির সৃষ্টি করছে। তারা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে, পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটককৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে এবং এলাকায় শান্তি ফিরে আসবে।



