নওগাঁর মান্দায় চাঁদা না দেওয়ায় হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত
নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলায় চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যক্তিকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার দুপুরে উপজেলার নুরুল্যাবাদ ইউনিয়নের কালীগ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত ব্যক্তির পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ
আহত ব্যক্তির নাম সারওয়ার জাহান (৪৫)। তিনি কালীগ্রামের কছিম উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন একই গ্রামের রাজু আহমেদ (৫০)। তিনি দলবল নিয়ে সারওয়ারের ওপর এ হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।
আহত সারওয়ারের স্ত্রী সাথী আক্তার ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'প্রায় এক বছর আগে কালীগ্রামের প্রসাদ কুমার ও তাপস কুমারের কাছ থেকে আমাদের বসতবাড়ি কিনে নেওয়া হয়। বাড়ি কেনার কিছুদিন পর থেকে অভিযুক্ত রাজু আহমেদ ও তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গরা এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিলেন। একই দাবিতে ঈদের আগের দিন বিকেলে রাজু আহমেদের নেতৃত্বে তাঁর লোকজন আমাদের বাড়ি ঘিরে রাখেন। পরে স্থানীয় লোকজনের চাপে তাঁরা পিছু হটেন। আজ দুপুর ১২টার দিকে একই দাবিতে রাজু ও শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন সন্ত্রাসী কালীগ্রাম উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পেছনে আমার স্বামীকে ধরে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মাথা থতলে দেয়।'
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য ও উদ্ধার প্রক্রিয়া
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে সারওয়ারের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে তাঁকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁর অবস্থা গুরুতর বিবেচনা করে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও তদন্তের অবস্থা
এ প্রসঙ্গে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম মাসুদ রানা বলেন, 'বিষয়টি জানা নেই, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' তবে, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।
এই হামলার ঘটনা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা গ্রামীণ অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা রোধ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



