চট্টগ্রামে ঈদের আগের রাতে দুর্বৃত্তের হামলায় তরুণ নিহত
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় ঈদুল ফিতরের আগের রাতে মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত এক তরুণ ঘটনার প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল শনিবার বেলা দুইটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত তরুণের নাম মিজানুর রহমান, যিনি মাত্র ২৬ বছর বয়সী ছিলেন এবং দুই সন্তানের বাবা হিসেবে পরিবারের জন্য অকালে জীবন হারিয়েছেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
মিজানুর রহমান সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাতিয়ারকুল এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি মৃত আবদুর রহিমের ছেলে হিসেবে পরিচিত এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি চট্টগ্রাম নগরে ফুটপাতে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত শুক্রবার রাতে, ঈদের কেনাকাটা সেরে তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ লোহাগাড়ার আমিরাবাদ বাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন।
রাত ১০টার দিকে অটোরিকশাটি হাতিয়ারপুল বাজারে পৌঁছালে, আগে থেকেই ওত পেতে থাকা মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা মিজানুর রহমানকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। এরপর রাত দেড়টার দিকে স্থানীয় লোকজন সোনাকানিয়া ইউনিয়নের বোর্ড অফিস সংলগ্ন এলাকায় তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। লোকজনের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, কিন্তু অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বেলা দুইটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
সাতকানিয়া থানার ওসি মনজুরুল হক জানিয়েছেন, পূর্ববিরোধের জেরে মিজানুর রহমানের ওপর এই হামলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, মিজানুরকে ধারালো কোনো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, যা তাঁর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এ ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি, তবে পুলিশ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চালাচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে, যাতে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করা যায়।
পরিবারের শোক ও সমাজের প্রতিক্রিয়া
মিজানুর রহমানের পরিবার এই আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোকে নিমজ্জিত। তিনি দুই সন্তানের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন, এবং তাঁর মৃত্যু পরিবারের জন্য একটি বড় আর্থিক ও মানসিক ধাক্কা বয়ে এনেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সম্প্রদায়ের সদস্যরা এই নৃশংস ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। এলাকাবাসীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
এই ঘটনা চট্টগ্রাম বিভাগে অপরাধের মাত্রা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে ঈদের মতো পবিত্র সময়ে এমন হামলা সামাজিক শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে। পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে এখন চ্যালেঞ্জ হলো অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।



