শাহজাদপুরে যুবককে বোনাসের লোভ দেখিয়ে ডেকে গলা কেটে হত্যা
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঈদ বোনাস দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে সোহেল রানা নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি শুক্রবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ঘটে, এবং ঈদুল ফিতরের দিন শনিবার দুপুরে ধানখেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
নিহত সোহেল রানা (২৪) শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের সরাতৈল গ্রামের আজাদ মণ্ডলের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত পৌনে ৮টার দিকে একদল যুবক ঈদ বোনাস দেওয়ার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে একটি সিএনজিতে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে গলা কেটে হত্যার পর লাশ ধানখেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঈদের দিন শনিবার দুপুরের দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে মুরুটিয়া-চিনাধুকুরিয়া গ্রামের মাঝে হাসান সড়কের পাশের একটি ধানখেত থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের বেদনাদায়ক বর্ণনা
নিহত সোহেলের মা রুবি খাতুন জানান, রাত পৌনে ৮টার দিকে সোহেলের ফোনে বারবার কল আসে। এ সময় সোহেল বাড়ি থেকে বের হতে চাইলে তিনি বাধা দেন। এর কিছু সময় পর ঈদ বোনাস দেবে বলে ৪-৫ জন যুবক তাকে বাড়ি থেকে ডেকে একটি সিএনজিতে তুলে নিয়ে যায়। এরপর সে আর সারারাত বাড়িতে ফিরে আসেনি। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে বাড়ির লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পায়নি।
ঈদের দিন শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয়রা ধানখেতে লাশ পড়ে থাকতে দেখে খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তার ছেলে বলে শনাক্ত করেন। তিনি দাবি করেন, যারা বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গেছে তারা এ হত্যার সঙ্গে জড়িত।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও দাবি
নিহত সোহেলের দূর সম্পর্কের নানা শহিদুল ইসলাম, নানি রহিমা খাতুন ও প্রতিবেশীরা অবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতার করে ফাঁসির দাবি করেন। এদিকে, কায়েমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বিএনপি নেতা সাইফুলের ছোট ভাই আসাদুজ্জামান দাবি করেন, তার ভাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন, তাকে শত্রুতা করে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
পুলিশের পদক্ষেপ
শাহজাদপুর থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, নিহতের মা রুবি খাতুন বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হবে।
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, এবং স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছে। পুলিশ তদন্ত জোরদার করে অপরাধীদের ধরতে তৎপর রয়েছে।



