ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দায়ের কোপে যুবক নিহত, পালিয়েছেন অভিযুক্তা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় এক মর্মান্তিক খুনের ঘটনায় স্থানীয় যুবক সুমন মিয়া (৩০) নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে কালীকচ্ছ ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বসতবাড়ির সীমানা সংলগ্ন চলাচলের পথে মোটরসাইকেল রাখা নিয়ে বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটে।
বিরোধের সূত্রপাত ও হত্যাকাণ্ড
বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে সুমন মিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রতিবেশী চাচাতো ভাই প্রবাসী সাত্তার মিয়ার পরিবারের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এই বিবাদ ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে সাত্তার মিয়ার স্ত্রী রোমেনা বেগম (৩০) ঘর থেকে একটি দা নিয়ে বেরিয়ে এসে সুমন মিয়ার হাত ও বুকে কোপ দেন। এই হামলায় সুমন মিয়া গুরুতরভাবে আহত হন।
আহত অবস্থায় সুমন মিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।
অভিযুক্তার পলায়ন ও পুলিশি তদন্ত
ঘটনার পর রোমেনা বেগম বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। পুলিশ এই ঘটনায় তাঁর শাশুড়ি বানু আরা বেগমকে (৬৫) আটক করেছে। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানিয়েছেন, সুমন মিয়ার লাশ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। রোমেনা বেগমের শাশুড়ি বানু আরা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ঘটনায় রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। পুলিশ এখন ঘটনার তদন্ত ও অভিযুক্তা রোমেনা বেগমকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। স্থানীয়রা এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচারের দাবি তুলেছেন।
এই ঘটনা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ের একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ ঘটনার গভীর তদন্তে নিযুক্ত রয়েছেন।



