ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মকর্তার পদত্যাগ
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সন্ত্রাসবাদবিরোধী কেন্দ্রের পরিচালক জোসেফ কেন্ট ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করে পদত্যাগ করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক চিঠিতে তাঁর পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন।
পদত্যাগের কারণ ও বিবেকের দায়বদ্ধতা
জো কেন্ট তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে তিনি ইরানে চলমান এই যুদ্ধের প্রতি সমর্থন দিতে পারছেন না। তিনি দৃঢ়ভাবে মত প্রকাশ করেছেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আসন্ন কোনো হুমকি ছিল না। তাঁর মতে, ইসরায়েল এবং তাদের শক্তিশালী মার্কিন লবির চাপেই এই যুদ্ধ শুরু করা হয়েছে।
কেন্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ২০১৬, ২০২০ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় উল্লিখিত মূল্যবোধ ও পররাষ্ট্রনীতিকে সমর্থন করেন, যা ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে কার্যকর ছিল। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধগুলো একটি ফাঁদ হিসেবে কাজ করেছে, যা দেশপ্রেমিক নাগরিকদের জীবন কেড়ে নিয়েছে এবং জাতির সম্পদ নিঃশেষ করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সমালোচনা
তাঁর চিঠিতে কেন্ট উল্লেখ করেছেন যে, প্রশাসনের শুরুর দিকে উচ্চপদস্থ ইসরায়েলি কর্মকর্তা এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রভাবশালী সদস্যরা একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রচার চালিয়েছিলেন। এই প্রচারণা ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি করতে যুদ্ধংদেহী মনোভাব উসকে দিয়েছে।
কেন্ট দাবি করেছেন যে, এই একপেশে প্রচারণার মাধ্যমে ট্রাম্পকে বিশ্বাস করানো হয়েছে যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি আসন্ন হুমকি এবং দ্রুত জয় নিশ্চিত। তিনি এটিকে একটি মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন এবং ইসরায়েলের কৌশলের সাথে ইরাক যুদ্ধের তুলনা টেনেছেন, যেখানে হাজারো মার্কিন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছিলেন।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যতের আহ্বান
১১ বার যুদ্ধের ময়দানে দায়িত্ব পালন করা একজন অভিজ্ঞ সৈনিক এবং ‘গোল্ড স্টার’ স্বামী হিসেবে কেন্ট বলেছেন, তিনি পরবর্তী প্রজন্মকে এমন এক যুদ্ধে লড়তে পাঠাতে পারবেন না, যা আমেরিকান জনগণের কোনো কল্যাণে আসবে না। তিনি তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী শ্যাননকে ইসরায়েলের তৈরি এক যুদ্ধে হারানোর কথা স্মরণ করে আবেগপ্রবণভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
চিঠির শেষে কেন্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানে চলমান কর্মকাণ্ড পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এখন সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এবং ট্রাম্প চাইলে বর্তমান পথ থেকে সরে এসে জাতির জন্য নতুন পথ তৈরি করতে পারেন, নতুবা বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিতে পারেন।
জোসেফ কেন্টের পদত্যাগ ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিভেদ এবং ইরান নীতির সমালোচনার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যত দিকনির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
