চট্টগ্রামে অপহরণের দেড় মাস পর মালয়েশিয়া থেকে উদ্ধার দুই কিশোর, গ্রেপ্তার সাত
মালয়েশিয়া থেকে উদ্ধার দুই কিশোর, গ্রেপ্তার সাত

চট্টগ্রামে অপহরণের দেড় মাস পর মালয়েশিয়া থেকে উদ্ধার দুই কিশোর

চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থেকে অপহৃত দুই কিশোরকে দেড় মাস পর মালয়েশিয়া থেকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে এনেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত মানবপাচার চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা মুক্তিপণ দাবি করে কিশোর দুটিকে নির্যাতন করছিল।

অপহরণ ও পাচারের বিস্তারিত ঘটনা

নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম জানান, চান্দগাঁওয়ের মৌলভী পুকুরপাড় এলাকার ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর গত ১ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হয়। প্রতিবেশী এই কিশোররা একটি গ্যারেজে কাজ করত। অপহরণের পর তাদের প্রথমে কক্সবাজারের টেকনাফ হয়ে সমুদ্রপথে থাইল্যান্ড এবং পরে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাদের পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং নির্যাতন চালানো হয়।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর হোসেন মামুন বলেন, “দুই কিশোর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, অপহরণের পর তাদের কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় পাঁচ থেকে সাত দিন আটকে রাখা হয়।”

গ্রেপ্তার ও তদন্তের অগ্রগতি

পুলিশের তদন্তে প্রথমে আবদুল কাদের ও ইয়াসিন আরাফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদপুরের দক্ষিণ মতলব থানা এলাকা থেকে মো. মিলন এবং কক্সবাজারের উখিয়া থেকে মো. মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোস্তফা পাচারকারী চক্রের মূল সদস্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন এবং আদালতে জবানবন্দিতে ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন।

পরে কৌশলে সমুদ্রপথেই পুলিশ মালয়েশিয়া থেকে দুই কিশোরকে দেশে ফিরিয়ে আনে। গত মঙ্গলবার টেকনাফের বড়ইতলীর পাহাড়ি এলাকা থেকে রোহিঙ্গা সাব মিয়া, শাহ আলম ও মোহাম্মদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের কাছ থেকে কিশোর দুটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

আদালত ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

ওসি নুর হোসেন মামুন আরও বলেন, “উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরকে আদালতে হাজির করা হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হবে।” তবে কবে কখন কিশোরদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে, তা পুলিশ স্পষ্টভাবে জানাতে পারেনি।

এই ঘটনায় ২৬ ফেব্রুয়ারি চান্দগাঁও থানায় মানব পাচার আইনে মামলা করা হয়। পুলিশের দ্রুত তদন্ত ও কার্যকরী ব্যবস্থা কিশোর দুটির উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা মানবপাচার বিরোধী অভিযানে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।