সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযানের পর শান্তি, স্থানীয়রা স্বস্তিতে
জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযানের পর শান্তি, স্থানীয়রা স্বস্তি

সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযানের পর শান্তির পরিবেশ

অবৈধভাবে পাহাড় কেটে বসতঘর গড়ে তোলার ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায়। সম্প্রতি, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবির যৌথ অভিযানের পর এলাকাটি এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শিশুরা মাঠে ক্রিকেট খেলছে, দোকানগুলোয় কেনাকাটায় ব্যস্ততা এবং স্থানীয় ও বাইরের লোকজন অবাধে আসা-যাওয়া করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া

জঙ্গল সলিমপুরের ১ নম্বর সমাজের আবু বক্কর (রা.) মসজিদের পাশ দিয়ে পাহাড় বেয়ে যাওয়ার সময় মো. রাশেদ (৫০) নামের এক বাসিন্দার সাথে সাক্ষাৎ হয়। তিনি অটোরিকশাচালক হিসেবে কাজ করেন এবং ২০০৯ সাল থেকে এখানে বসবাস করছেন। রাশেদ বলেন, ‘আগে সন্ত্রাসীদের মধ্যে দখল-বেদখল নিয়ে মারামারি হতো। আমরা সাধারণ বাসিন্দারা আতঙ্কে থাকতাম। এখন অভিযানের পর পুলিশ পাহারা রয়েছে। সন্ত্রাসীরাও এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।’ তাঁর মতে, এই শান্তি কেবল সপ্তাহ নয়, বছরের পর বছর ধরে থাকা উচিত।

যৌথ অভিযানের বিস্তারিত

প্রথমবারের মতো ৯ মার্চ তারিখে প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের যৌথ বাহিনী এলাকাটিতে অভিযান চালায়। এর আগে বিভিন্ন সময় চেষ্টা করেও এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হয়নি, বরং পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা হামলার শিকার হয়েছেন। এবারের অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন, রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন উদ্দিনসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী এখনো পলাতক রয়েছেন।

এলাকাবাসীর মতে, অভিযানের আগে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকা রোকনের দখলে এবং আলীনগর এলাকা ইয়াসিনের দখলে ছিল। এখন এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ও আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ে র‍্যাব-পুলিশের সমন্বয়ে দুটি চৌকি বসানো হয়েছে, যা নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ জানান, ‘জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ ও প্রশাসনের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই সেখানে আর সন্ত্রাসীরা ঢুকতে পারবে না। তাদের সেই সাহস এখন আর নেই।’ তিনি আরও যোগ করেন যে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা হবে।

র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমানও একই সুরে বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের পরিচয় তারা সন্ত্রাসী। তাদের ধরতে র‌্যাব কাজ করছে। যেভাবেই হোক জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হবে।’

স্থানীয়দের দাবি ও আশা

জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকার বাসিন্দা আবু সাঈদ প্রায় ২০ বছর ধরে পরিবারসহ এখানে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা কোনো অবস্থাতেই যাতে এলাকায় ফিরতে না পারে। এই এক সপ্তাহ ধরে শান্তিতেই আছি। আমাদের দাবি থাকবে, সরকার আমাদের তুলে দিলেও যাতে উপযুক্ত জায়গায় পুনর্বাসন করে।’ স্থানীয়রা চান যে এলাকাটি সন্ত্রাসমুক্ত থাকুক এবং অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধ হোক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, লোকজন নির্বিঘ্নে যাতায়াত করছেন, দোকানগুলোয় ভিড় রয়েছে এবং র‍্যাব-পুলিশের টহল অব্যাহত আছে। এই পরিবর্তন এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।