৫০০ টাকা ধার না পেয়ে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা, দেবর গ্রেপ্তার
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় একটি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ অভিযুক্ত দেবরকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাত্র ৫০০ টাকা ধার না পেয়ে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি নুর শাহিন (১৮) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
নিহত জদিদা কাওসার (২৩) উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের মশারখোলা গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর শফিকুল ইসলামের স্ত্রী। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমানের বক্তব্য অনুসারে, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে নুর শাহিন তাঁর ভাবি জদিদা কাওসারের কাছে ৫০০ টাকা ধার চান। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ধারালো অস্ত্র (দা) দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করেন।
পরে পুলিশ অভিযুক্ত নুর শাহিনকে গ্রেপ্তার করে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করেছে। আজ শুক্রবার সকালে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের মশারখোলা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে জদিদা কাওসারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পটভূমি ও তদন্ত
নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং পুলিশের ধারণা, সাহ্রির আগেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিহতের ভাই ওবায়দুল্লাহ ও নজিবুল্লাহ জানান, জদিদার স্বামী শফিকুল ইসলাম দিনমজুর হিসেবে বান্দরবানে কাজ করতে গিয়েছিলেন রমজানের শুরুতে।
স্বামীর অনুপস্থিতিতে জদিদা পাশের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে খাওয়াদাওয়া করতেন। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে খেয়ে তিনি নিজ ঘরে ফিরে যান। পরে সাহ্রির সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি খেতে না আসায় শ্বশুর তাঁকে ডাকতে যান এবং ঘরে গিয়ে জদিদাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।
মামলা ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া
এ ঘটনায় পরদিন নিহতের বাবা নুরুল ইসলাম উখিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রায় পাঁচ বছর আগে জদিদা কাওসারের সঙ্গে শফিকুল ইসলামের বিয়ে হয় এবং তাঁদের সংসারে চার বছরের এক ছেলে ও দুই বছরের এক মেয়ে রয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল আজাদ বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে পালংখালী ইউনিয়নের গয়ালমারা এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নুর শাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
তিনি আরও বলেন, নুর শাহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে পালংখালীর মশারখোলা এলাকার চিত্তাখোলা খালের পাড় থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
