ইরানি নেতাদের তথ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা
ইরানি নেতাদের তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১ কোটি ডলার পুরস্কার

ইরানি নেতাদের তথ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ও ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি সহ কয়েকজন ইরানি নেতার বিষয়ে তথ্য প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি ডলার (১০ মিলিয়ন ডলার) পুরস্কার ঘোষণা করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের 'রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস' কর্মসূচির আওতায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা ইরানের সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত নেতাদের তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

পুরস্কার ও তথ্যের বিবরণ

কর্মসূচিটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি পোস্টারে বলা হয়েছে, 'ইরানের সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত নেতাদের' বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য চাওয়া হচ্ছে। পোস্টারে দাবি করা হয় যে, এই ব্যক্তিরা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস–এর বিভিন্ন অংশকে নির্দেশনা ও নেতৃত্ব দেন। সংগঠনটিকে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা, সংগঠন ও বাস্তবায়নে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নির্ভরযোগ্য তথ্য দিলে তথ্যদাতারা সর্বোচ্চ ১০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পুরস্কার পেতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে তাদের নিরাপদ পুনর্বাসনের সুযোগও দেওয়া হতে পারে।

যাদের সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় যাদের সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন:

  • ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব
  • ডেপুটি চিফ অব স্টাফ আলি আসগর হেজাজি
  • মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি
  • ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসকান্দার মোমেনি
  • সুপ্রিম কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি

এদিকে, শুক্রবার তেহরানে অনুষ্ঠিত আল-কুদস দিবসের বিক্ষোভে অংশ নিতে দেখা গেছে আলী লারিজানিকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কিছু ছবি প্রকাশ করেছেন, যা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি দিক তুলে ধরছে।

কর্মসূচির প্রভাব ও উদ্দেশ্য

এই পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতির একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টাকে জোরদার করার লক্ষ্যে পরিচালিত। 'রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস' কর্মসূচি বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহের জন্য পরিচিত, এবং এই ঘোষণা ইরানের সাথে সম্পর্কিত জটিলতাগুলোকে আরও উন্মোচিত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই পুরস্কার ঘোষণা ইরানি নেতাদের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।