জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহর ওপর হামলা, অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন
ফারুক আবদুল্লাহর ওপর হামলা, অল্পে বেঁচেছেন

জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহর ওপর হামলা

ভারত–নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন। জম্মুতে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে তিনি হামলার শিকার হন। খুব কাছে থেকে তাঁকে গুলি করা হয়েছিল, কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

ঘটনার বিবরণ

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় জম্মুর গ্রেটার কৈলাশ এলাকার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে ফারুক আবদুল্লাহর ওপর গুলি চালানোর চেষ্টা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি গ্রেটার কৈলাশের রয়্যাল পার্কে অনুষ্ঠিত বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, তখনই এই হামলার চেষ্টা করা হয়।

ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারী খুব কাছ থেকে গুলি করার চেষ্টা করেন। তিনি কাশ্মীরের এই প্রবীণ নেতার কয়েক কদম পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তাঁর কাঁধ বরাবর হাত তুলে অস্ত্র তাক করেছিলেন। তিনি গুলিও ছোড়েন। তবে নিরাপত্তায় নিয়োজিত ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (এনএসজি) কমান্ডোরা দ্রুত ধাক্কা দিলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় গুলি। এ ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পান তিনি।

হামলাকারীর পরিচয় ও গ্রেপ্তার

পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীর নাম কমল সিং জামওয়াল। ঘটনাস্থলেই তাঁকে আটক করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আটক হওয়ার পর উপস্থিত কিছু মানুষ তাঁকে মারধর করছেন।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি নিজেকে জম্মুর পুরানাস মান্ডি এলাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন। প্রায় ৬৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি নাকি কোনো অনুতাপও প্রকাশ করেননি। বরং তিনি দাবি করেছেন, গত ২০ বছরে তিনি এমন একটি সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এ ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। তিনি এটিকে তাঁর ৮৮ বছর বয়সী বাবা ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর ওপর ‘হত্যাচেষ্টা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওমর আবদুল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ দয়ালু। আমার বাবা অল্পের জন্য বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। এখনো বিস্তারিত তথ্য পরিষ্কার নয়। তবে জানা গেছে, একজন ব্যক্তি লোড করা পিস্তল নিয়ে খুব কাছ থেকে গুলি ছোড়ার সুযোগ পেয়েছিল।’

ওমর আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘নিরাপত্তা দলের সদস্যরা দ্রুত তৎপর হয়ে গুলির দিক পরিবর্তন করে দেন। এর ফলে হত্যাচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তবে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি, বিশেষ করে কীভাবে একজন ব্যক্তি এত কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারল, যখন একজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে জেড-প্লাস নিরাপত্তা দিচ্ছে এনএসজি।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ

ঘটনার সময় ফারুক আবদুল্লাহর সঙ্গে ছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের উপমুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরী, ও মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা নাসির সোগামি। নাসির সোগামি বলেন, এটি স্পষ্টতই ফরুক আবদুল্লাহকে হত্যার চেষ্টা ছিল। তবে সৌভাগ্যক্রমে গুলিতে কেউ আহত হননি। হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল বা নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এই ঘটনা জম্মু-কাশ্মীরের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কর্তৃপক্ষ এখন তদন্ত চালিয়ে হামলার পেছনের কারণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্ভাব্য ত্রুটি খতিয়ে দেখছে।